মঙ্গলবার, ২৮ নভেম্বর, ২০২৩

তালগোল পাকিয়ে ফেলছে ঢাকা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়

তালগোল পাকিয়ে ফেলছে ঢাকা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়


 নিয়মানুযায়ী প্রতি আসনে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের মনোনীত প্রার্থী ওই দলের ব্যানারে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছ থেকে মনোনয়নপত্র উত্তোলন ও জমা দিতে পারবেন। এ বিষয়টি নিশ্চিত করতে দলগুলোর কাছ থেকে মনোনয়ন প্রদানের ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তির নাম ও স্বাক্ষর জমা নেওয়া হয় নির্বাচন কমিশনে (ইসি)। এত কিছুর পরেও তালগোল পাকিয়ে ফেলছে ঢাকা বিভাগীয় রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়। তাদের কাছ থেকে পাওয়া তালিকায় দেখা গেছে, একই আসনে মনোনয়নপত্র উত্তোলনকারী একাধিক ব্যক্তির নামের সামনে রাজনৈতিক দলের স্থানে ‘আওয়ামী লীগ’ লেখা রয়েছে। যা নিয়ে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পাওয়া নেতাদের মধ্যে অস্বস্তি দেখা দিয়েছে।

আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পাওয়া একাধিক নেতা ঢাকা টাইমসকে বলেন, প্রতি আসন থেকে আওয়ামী লীগ একজনকেই মনোনয়ন দিয়েছে। শুধুমাত্র মনোনয়নপ্রাপ্ত নেতার নামের সামনেই দলের নাম আওয়ামী লীগ লেখা থাকা উচিত। দলের মনোনয়ন পাননি- এমন আওয়ামী লীগ নেতারাও যদি রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন- তবে তার নামের সামনে দলের নাম নয়- স্বতন্ত্র লেখা থাকার কথা। কিন্তু ঢাকা বিভাগীয় রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় একই আসনে একাধিক মনোনয়নপত্র উত্তোলনকারী ব্যক্তির নামের সামনে ‘আওয়ামী লীগ’ লিখে রেখেছেন- যা বিব্রতকর।

সোমবার আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনীত প্রার্থীদের ফরম বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। একইদিনে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের অফিস ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে বিভিন্ন দলের প্রার্থী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র দেওয়া শুরু হয়।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঢাকার রমনা অঞ্চলের নির্বাচন কর্মকর্তা এম এম শাহনাজ পারভীন ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয় থেকে প্রথমদিন সোমবার ও দ্বিতীয় দিন মঙ্গলবার মোট ১৭৪ জন মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন এবং মনোনয়ন ফরম দাখিল করেছেন ৯জন সংসদ সদস্য প্রার্থী।’ ঢাকার মোট ২০টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ৪-১৮ আসন পর্যন্ত ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটির আওতাধীন। এই ১৫টি আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করছেন ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার। এছাড়া বাকি পাঁচটি আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্বে আছেন জেলা প্রশাসক। প্রার্থীরা আসনভিত্তিক ওয়ার্ডের সংখ্যা অনুপাতে নির্দিষ্ট টাকার বিনিময়ে ঢাকার রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে মনোনয়ন ফরম তুলতে পারছেন। ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত মনোনয়নপত্র উত্তোলন ও জমা দেওয়া যাবে।

ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের অফিস ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে প্রথম ও দ্বিতীয় দিনের মনোনয়ন ফরম নেওয়ার তালিকায় দেখা গেছে, ঢাকা-৪ আসনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনীত প্রার্থী সানজিদা খানম হলেও এই আসনে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের তালিকায় আওয়ামী লীগের নামে দুইজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র নেওয়ার তথ্য লেখা রয়েছে। এছাড়াও একই তালিকায় ৩জন স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ মোট ৮জনের নাম রয়েছে।

মো.আওলাদ হোসেন ঢাকা টাইমসকে বলেন, আমি ঢাকা-৪ আসনে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে মনোনয়ন ফরম নিয়েছে।

ঢাকা-৮ আসনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম। কিন্তু এই আসনে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের তালিকায় আওয়ামী লীগের নামে মনোনয়নপত্র উত্তোলনকারী দুজনের নাম লেখা রয়েছে- বাহাউদ্দিন নাছিম ও দেলোয়ার হোসেন। এ আসনে জাতীয় পার্টির নামে দুইজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র নিয়েছেন। প্রাপ্ত তালিকা অনুযায়ী, মঙ্গলবার পর্যন্ত এ আসন থেকে মোট ১৪জন সম্ভাব্য প্রার্থী মনোনয়নপত্র নিয়েছেন।

ঢাকা-১০ আসনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পেয়ে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে মনোনয়নপত্র নিয়েছেন চিত্রনায়ক ফেরদৌস আহমেদ। কিন্তু রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের তালিকায় একই আসনে আওয়ামী লীগ লেখা রয়েছে কামাল আহমেদ নামে এক সম্ভাব্যপ্রার্থীর নামেসর সামনেও । এছাড়াও জাতীয় পার্টির নামে রয়েছে দুইজন।

এই বিষয়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোর্শেদ কামাল ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘আমি এখনো রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ফরম নেইনি, কিন্তু নেব। ধানমন্ডি থানা আওয়ামী লীগ সভাপতি কামাল আহমেদ ভাই নিয়েছে।’ এই আসনে মোট ফরম নিয়েছেন ১০জন।

ঢাকা-১৪ আসনে আওয়ামী লীগ দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন মাইনুল হোসেন খান নিখিল। কিন্তু রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্য বলছে এই আসন থেকেও আওয়ামী লীগের হয়ে ফরম নিয়েছেন আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম। তাহলে তাদের দেয়া তথ্য বলছে, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম ঢাকা ৮ ও ১৪ আসন থেকে মনোনয়ন নিয়েছেন। রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা ১৪ আসন থেকেই আওয়ামীলীগের নামে মনোনয়নপত্র নিয়েছেন ৯জন, ৫জন জাতীয় পার্টিরসহ মোট ২৬জন প্রার্থী।

ঢাকা-১৫ আসনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পেয়ে ফরম নিয়েছেন কামাল আহমেদ মজুমদার। কিন্তু এই আসনে রিটানিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে আওয়ামী লীগের নামের তালিকায় তিনিসহ রয়েছে এসএম আবুল কাশেমের নামও। এই তালিকায় মোট ফরম নিয়েছেন ৯জন।

ঢাকা ৭ আসনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন সোলেমান সেলিম। এই আসন থেকে তিনি একাই মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন।

ঢাকা ১১ আসনে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন পেয়েছেন মো. ওয়াকিল উদ্দিন। তবে এই আসনে আওয়ামীলীগের নামে ফরম নেওয়ার তালিকায় রয়েছে আরও ৪ জনসহ মোট ১১জন।

ঢাকা ১৩ আসনে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন পেয়েছেন জাহাঙ্গীর কবির নানক তবে একই আসনে আওয়ামীলীগ তালিকায় তিনিসহ নাম রয়েছে মো. সাদেক খানেরও। এই তালিকায় জাতীয় পার্টির দুইজনসহ মোট ১০ জনের তালিকা রয়েছে। ঢাকা ১৬ আসনে জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী হয়েছেন মো. আমানত হোসেন আমান, তবে এই আসনে জাতীয় পার্টির নামে ফরম নিয়েছেন তিনিসহ আমিনুল ইসলাম নামের ওপর এক প্রার্থী।

ঢাকা ১৭ আসনে আওয়ামীলীগের মনোনীত প্রার্থী মো. আলী আরাফাত হলেও একই আসনে তিনিসহ ফরম নেওয়ার তালিকায় রয়েছে আবু সাঈদ নামে আরেক জনের নাম। এছাড়াও বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির নামের ২জন সহ মোট রয়েছে ১৪জনের নাম।

১৮ আসনে আওয়ামী লীগে প্রার্থী হিসেবে মো হাবিব হাসান মনোনীত হলেও একই দলের নামের তালিকায় রয়েছে মো. বশির উদ্দিন নামের আরেজন প্রার্থী। এছাড়াও এই আসনে ২জন জাতীয় পার্টির প্রার্থীসহ মোট ৯জনের নাম রয়েছে।

নির্বাচন কমিশনে রাজনৈতিক মনোনীত প্রার্থীদের নামের তালিকা দেওয়ার আগেই প্রার্থীদের নামের সাথে দলীয় নাম উল্লেখ করা এবং একই রাজনৈতিক সংগঠনের নামে একাধিক ফরম দেওয়ার তালিকার বিষয়ে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের নির্বাচন অফিসার এম এম শাহনাজ পারভীন ঢাকা টাইমসকে বলেন, আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি, স্বতন্ত্রসহ বেশকিছু রাজনৈতিক দলের ১৭৪ জন মনোনয়ন দাখিল করেছেন। একদলের একাধিক নেতাও মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন। আওয়ামী লীগের হোক আর যেই দলের হোক একদলের নামে একাধিক প্রার্থী মনোনয়ন ফরম নিতে পারবেন।

চলতি নভেম্বর মাসের ১৫ তারিখে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হবিবুল আউয়াল নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন। তফসিল অনুযায়ী, নির্বাচনে প্রার্থীদের মনোনয়ন ফরম দাখিলের শেষ দিন ৩০ নভেম্বর, মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই ১ থেকে ৪ ডিসেম্বর, মনোনয়নের আপিল ও নিষ্পত্তি ৬ থেকে ১৫ ডিসেম্বর, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ১৭ ডিসেম্বর, প্রতীক বরাদ্দ ১৮ ডিসেম্বর, নির্বাচনী প্রচার ১৮ ডিসেম্বর থেকে ৫ জানুয়ারি সকাল ৮টা পর্যন্ত এবং সারাদেশে ৩০০ আসনে একযোগে ভোটগ্রহণ হবে ৭ জানুয়ারি।

অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটে চার সংগঠন, জ্বালানি তেল পরিবহন ও বিক্রি বন্ধ

অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটে চার সংগঠন, জ্বালানি তেল পরিবহন ও বিক্রি বন্ধ

ধর্মঘটের কারণে ফেলে রাখা হয়েছে জ্বালানি পরিবহনের ট্যাংকলরিগুলো। আজ রোববার সকালে খুলনার কাশিপুরের যমুনা টার্মিনালে
ছবি: প্রথম আলো


তিন দফা দাবিতে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট শুরু করেছেন জ্বালানি তেল ব্যবসায়ীরা। আজ রোববার সকাল আটটা থেকে জ্বালানি তেল উত্তোলন, পরিবহন ও বিক্রয় বন্ধ রেখেছেন তাঁরা। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে খুলনা নগরের খালিশপুরে ট্যাংকলরি ভবনে আয়োজিত এক সভা থেকে সারা দেশে ওই ধর্মঘট পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়।

বাংলাদেশ ট্যাংকলরি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ জ্বালানি তেল পরিবেশক সমিতি, বাংলাদেশ ট্যাংকলরি শ্রমিক ইউনিয়ন এবং পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা ট্যাংকলরি শ্রমিক কল্যাণ সমিতি যৌথভাবে ওই ধর্মঘট পালন করছে।


জ্বালানি তেল ব্যবসায়ীদের তিন দফা দাবি হলো—জ্বালানি তেল পরিবহনকারী ট্যাংকলরির অর্থনৈতিক জীবনকাল ৫০ বছর করা, জ্বালানি তেল বিক্রির ওপর প্রচলিত কমিশন কমপক্ষে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ করা, জ্বালানি তেল ব্যবসায়ীরা কমিশন এজেন্ট বিধায় প্রতিশ্রুতি মোতাবেক সুস্পষ্ট গেজেট প্রকাশ করা।

আরও পড়ুন

সারা দেশে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ডাক জ্বালানি তেল ব্যবসায়ীদের

প্রায় দেড় মাস আগে গত ২৪ জুলাই ঢাকায় এক সভা থেকে ওই তিন দফা দাবি ঘোষণা করেছিলেন জ্বালানি তেল ব্যবসায়ীরা। দাবি বাস্তবায়নে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দাবি মেনে না নেওয়ায় আজ থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘট শুরু করেছেন তাঁরা।

এদিকে গতকাল শনিবার রাত আটটার পর থেকেই খুলনা নগরের তেলপাম্পগুলো থেকে তেল সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছিল। এতে ভোগান্তিতে পড়ে শত শত যানবাহন। প্রতিটি পাম্পে মোটরসাইকেল ও গাড়ির দীর্ঘ সারি দেখা যায়।

দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত জ্বালানি তেল পরিবহন বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। আজ রোববার সকালে খুলনার কাশিপুরের যমুনা টার্মিনালে
দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত জ্বালানি তেল পরিবহন বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। আজ রোববার সকালে খুলনার কাশিপুরের যমুনা টার্মিনালে
ছবি: প্রথম আলো

বাংলাদেশ জ্বালানি তেল পরিবেশক সমিতির কেন্দ্রীয় সভাপতি গফ্ফার বিশ্বাস আজ সকালে প্রথম আলোকে বলেন, জ্বালানি তেল বিক্রির ওপর কমিশন বৃদ্ধিসহ ৩ দফা দাবি পূরণে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সরকার তাঁদের দাবি মেনে নেয়নি। এ কারণে আজ সকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য তেল উত্তোলন, পরিবহন ও বিক্রয় বন্ধ রেখে ধর্মঘট পালন করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে একই এবং যৌক্তিক দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন তাঁরা।

গফ্ফার বিশ্বাস বলেন, সরকার চার বছর ধরে কয়েকবার তাঁদের সঙ্গে বৈঠক করেছে। প্রতিবারই সময় নিয়েছে, কিন্তু তাঁদের দাবি বাস্তবায়ন করেনি। ফলে বাধ্য হয়েই তাঁদের তেল উত্তোলন, পরিবহন ও বিক্রয় বন্ধ রেখে ধর্মঘট পালন করতে হচ্ছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

বাংলাদেশ ট্যাংকলরি মালিক সমিতির কেন্দ্রীয় মহাসচিব ফরহাদ হোসেন সকালে প্রথম আলোকে বলেন, সকাল আটটা থেকে সারা দেশে একযোগে ধর্মঘট শুরু হয়েছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত জ্বালানি তেল পরিবহন বন্ধ থাকবে।

 

মানিকগঞ্জ-৩টি আসনে নৌকার প্রতিক পেলেন যাঁরা

মানিকগঞ্জ-৩টি আসনে নৌকার প্রতিক পেলেন যাঁরা


 রোববার (২৬ নভেম্বর) বিকেলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে অবস্থিত দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এ সময় ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৮টির প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেন তিনি।

মানিকগঞ্জ-১ (ঘিওর-দৌলতপুর-শিবালয়) আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য এ এম নাঈমুর রহমান দুর্জয়কে বাদ দিয়ে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাড. আব্দুস সালাম। মানিকগঞ্জ-২ (সিংগাইর-হরিরামপুর ও সদরের আংশিক) আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য মমতাজ বেগম ও মানিকগঞ্জ-৩ (মানিকগঞ্জ সদর-সাটুরিয়া) আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

এর আগে মানিকগঞ্জের তিন আসনের বিপরীতে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করার জন্য ২৩ জন দলের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছিলেন।

মানিকগঞ্জ-১এ আসনে নতুন মুখ হিসেবে এবার জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালামকে দলের মনোনয়ন দিয়েছেন। এর আগে তিনি ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনীত হয়ে নির্বাচনে অংশ নেন। তবে সেই সময় তিনি বিএনপির মনোনীত প্রার্থী প্রয়াত মহাসচিব খন্দকার দেলোয়ার হোসেনে কাছে পরাজিত হন। এর পর ২০০৮, ২০১৪ এবং ২০১৮ সালের নির্বাচনেও তিনি দলে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন।

মানিকগঞ্জ-২

মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার তিনটি ইউনিয়ন, সিংগাইর ও হারিরামপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত মানিকগঞ্জ-২ আসন। এই আসনে ২০০৮ সালের নির্বাচনে জাতীয় পার্টি থেকে সংসদ সদস্য হন সৈয়দ আব্দুল মান্নান। ওই সময় জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে হন জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগম। এর পর ২০১৪ ও ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে নৌকা প্রতীক নিয়ে সংসদ সদস্য হন মমতাজ।

মানিকগঞ্জ-৩

মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা এবং সাটুরিয়া উপজেলা নিয়ে মানিকগঞ্জ-৩ সংসদীয় আসন গঠিত। এই আসনে দীর্ঘ ৩৫ বছর বিএনপির দখলে ছিল। তবে ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেন বর্তমান সংসদ সদস্য ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। সেই সময় তিনি বিএনপির প্রার্থীকে পরাজিত করে প্রথমবারের মত সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ওই নির্বাচনে মানিকগঞ্জ-৩ আসনে প্রথম এমপি পায় আওয়ামী লীগ। এর পর জাহিদ মালেককে আর দমানো যায়নি, তিনি টানা তিনবার সংসদ সদস্য হন এই আসন থেকে।

এদিকে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে গত ১৮ থেকে ২১ নভেম্বর পর্যন্ত চার দিনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন ৩ হাজার ৩৬২ জন মনোনয়নপ্রত্যাশী। মনোনয়ন ফরম বিক্রি করে দলটির আয় হয়েছে ১৬ কোটি ৮১ লাখ টাকা। এর মধ্যে রংপুর জেলায় ছয়টি সংসদীয় আসনে মনোনয়ন ফরম কিনেন ৩৮ জন।

নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী নির্বাচনে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ৩০ নভেম্বর, মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই হবে ১ থেকে ৪ ডিসেম্বর, মনোনয়ন আপিল ও নিষ্পত্তি ৬ থেকে ১৫ ডিসেম্বর, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ১৭ ডিসেম্বর। প্রতীক বরাদ্দ হবে ১৮ ডিসেম্বর এবং নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা ১৮ ডিসেম্বর থেকে ৫ জানুয়ারি সকাল ৮টা পর্যন্ত চলবে। ভোটগ্রহণ ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। সংসদ নির্বাচনের জন্য ৬৬ জন রিটার্নিং কর্মকর্তা এবং ৫৯২ জন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার নিয়োগ চূড়ান্ত করা হয়েছে।

সোমবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২৩

এইচএসসিতে পাস ও জিপিএ ৫ কমার তিন কারণ

এইচএসসিতে পাস ও জিপিএ ৫ কমার তিন কারণ

 

ভালো ফলের খবরে আনন্দে মেতে ওঠে শিক্ষার্থীরা। গতকাল রাজধানীর নটর ডেম কলেজে। ছবি : কালের কণ্ঠ

চলতি বছর এইচএসসি (উচ্চ মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট) ও সমমানের পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের পাসের হার গত বছরের তুলনায় ৭.৩১ শতাংশ কমেছে। জিপিএ ৫ পাওয়া শিক্ষার্থী কমেছে ৮৩ হাজার ৬৮৭ জন, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় অর্ধেক।


সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তিন কারণে বিগত বছরগুলোর তুলনায় ফল খারাপ হয়েছে। তবে শিক্ষামন্ত্রীসহ বোর্ড কর্মকর্তাদের দাবি, করোনার আগের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যাবে ফল স্বাভাবিক ধারাতেই আছে।


গতকাল রবিবার সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে এইচএসসি-২০২৩-এর ফল প্রকাশ উদ্বোধন করেন। সকাল ১১টায় তা শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি ফলের সারসংক্ষেপ তুলে ধরেন।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষাক্ষেত্রে বাংলাদেশকে অনুকরণীয় বলে বিবেচনা করছে বিশ্বের অন্যান্য দেশ।


বর্তমানে দেশের শিক্ষার হার ৭৬.০৮ শতাংশ। করোনার কারণে ২০২১ ও ২০২২ সালে সব বিষয়ে পূর্ণ নম্বরে পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হয়নি।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘নারী-পুরুষের সমান অধিকারের কথা সব সময় আমাদের শুনতে হয়। এখন দেখছি উল্টো।


পরীক্ষায় জিপিএ ৫ ও পাসের হারে মেয়েরা এগিয়ে রয়েছে। ছেলেদের পিছিয়ে থাকার কারণ খুঁজে বের করতে হবে।’

চলতি বছর এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে ১৩ লাখ ৫৭ হাজার ৯১৫ জন পরীক্ষার্থী। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১০ লাখ ৬৭ হাজার ৮৫২ জন। অর্থাৎ পাসের হার ৭৮.৬৪ শতাংশ।


জিপিএ ৫ পেয়েছে ৯২ হাজার ৫৯৫ জন শিক্ষার্থী। গত বছর এইচএসসি-২০২২-এ শিক্ষার্থী পাসের হার ছিল ৮৫.৯৫ শতাংশ এবং জিপিএ ৫ পেয়েছিল এক লাখ ৭৬ হাজার ২৮২ জন পরীক্ষার্থী। অর্থাৎ বিগত বছরের তুলনায় পাসের হার কমার পাশাপাশি জিপিএ ৫ প্রাপ্তি কমে প্রায় অর্ধেকে নেমেছে।


সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, যে তিনটি কারণে এবারের ফল গতবারের চেয়ে কিছুটা পিছিয়েছে, তা হলো করোনার পর এ বছর থেকে সব বিষয়ে পূর্ণ সিলেবাস চালু এবং পূর্ণ নম্বরে ও তিন ঘণ্টায় পরীক্ষা নেওয়া। এ ছাড়া ইংরেজি বিষয়ে শিক্ষার্থীদের অকৃতকার্য হওয়া এবং করোনার কারণে যথাযথ শ্রেণি পাঠদান না পাওয়ায় সেই ঘাটতি নিয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ।


শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, ‘এর আগে করোনার কারণে ২০২১ ও ২০২২ সালে বিশেষ ছাড় দিয়ে পরীক্ষাগুলো নেওয়া হয়। এসব কারণে গত বছরের তুলনায় ফল খারাপ হয়েছে বলে মনে হতে পারে। তবে ২০১৯ সালের ফলের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যাবে ধারাবাহিকতা ঠিক আছে।’


২০১৯ সালের ফলে দেখা যায়, পাসের হার ছিল ৭৩.৯৩ শতাংশ এবং জিপিএ ৫ পেয়েছে ৪৭ হাজার ২৮৬ জন।


যশোর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. মো. আহসান হাবীব বলেন, ‘সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে ইংরেজি বিষয়ে। এতে পাসের হার ও জিপিএ ৫ পাওয়া থেকে বঞ্চিত হয়েছে অনেক শিক্ষার্থী।’


শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, সাধারণ ৯টি বোর্ডের অধীনে বিভিন্ন বিষয়ের পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের উত্তীর্ণের হার ৯০ থেকে ৯৯ শতাংশ। অন্যদিকে ইংরেজি বিষয়ে উত্তীর্ণের হার ৭৭ থেক ৮৮ শতাংশ। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে ইংরেজি বিষয়ে অকৃতকার্য ১৩.১৭ শতাংশ শিক্ষার্থী। এ ছাড়া রাজশাহীতে ১৬.৮২ শতাংশ, কুমিল্লায় ১৮.০২ শতাংশ, যশোরে ২২.৬৪ শতাংশ, চট্টগ্রামে ১১.০৯ শতাংশ, বরিশালে ১৩.৯৯ শতাংশ, সিলেটে ১৭.৮১ শতাংশ, দিনাজপুরে ১৭.২০ শতাংশ ও ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের ২৪.৬২ শতাংশ শিক্ষার্থী ইংরেজিতে ফেল করেছে।


ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে থাকা একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা জানায়, বিগত বছরের তুলনায় এ বছর ভিন্ন আঙ্গিকে প্রশ্নপত্র হয়েছে। বিশেষ করে ইংরেজি বিষয়ে প্রশ্নপত্র তুলনামূলকভাবে কঠিন ছিল। এসব কারণে অনেক শিক্ষার্থী কাঙ্ক্ষিত ফল পায়নি।


পাস, জিপিএ ৫ কমেছে তিন কারণেঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক তপন কুমার সরকার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বরাবরের মতোই প্রশ্নপত্র করেছি। এতে কী ভিন্নতা ছিল, তা শিক্ষার্থীরাই বলতে পারবে। এ ছাড়া ইংরেজি বিষয়ে আমাদের শিক্ষার্থীরা বরাবরই দুর্বল।’


ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ কেকা রায় চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘করোনার কারণে শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের যথেষ্ট সময় পায়নি। প্রস্তুতিতে ঘাটতি নিয়েই তারা পরীক্ষা দিয়েছে, যা তাদের ফলে কিছুটা প্রভাব ফেলেছে। আশা করি, আগামী বছর থেকে এ সমস্যা আর থাকবে না। তবে করোনার আগের ফলের সঙ্গে তুলনা করলে এই ফলকে খারাপ বলা যাবে না।’


৪২ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সব শিক্ষার্থী অকৃতকার্য


৪২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শতভাগ শিক্ষার্থী এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নিয়ে অনুত্তীর্ণ হয়েছে। এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পাঁচটি, রাজশাহীতে চারটি, কুমিল্লায় একটি, যশোরে সাতটি, চট্টগ্রামে তিনটি, দিনাজপুরে ১৬টি, ময়মনসিংহে চারটি। মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে রয়েছে দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।


শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ৯৫৩টি। এর আগে ২০২২ সালে শতভাগ শিক্ষার্থী ফেল করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ৫০। ২০২১ সালে এ সংখ্যা ছিল পাঁচ।


পাসের হার ও জিপিএ ৫-এ ছাত্রীরা এবারও এগিয়ে


শিক্ষার্থীদের মধ্যে পাসের হার ও জিপিএ ৫ প্রাপ্তিতে এ বছরও ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রীরা এগিয়ে। ছাত্রের চেয়ে ৩.৮১ শতাংশ বেশি ছাত্রী পাস করেছে এবং ছয় হাজার ১৩৫ জন বেশি ছাত্রী জিপিএ ৫ পেয়েছে।


উত্তীর্ণ ছাত্রসংখ্যা ছয় লাখ ৮৯ হাজার ২৩ জন, পাসের হার ৭৬.৭৬ শতাংশ ও জিপিএ ৫ পেয়েছে ৪৩ হাজার ২৩০ জন। উত্তীর্ণ ছাত্রীর সংখ্যা পাঁচ লাখ ৩৮ হাজার ৯৩৩ জন, পাসের হার ৮০.৫৭ শতাংশ ও জিপিএ ৫ পেয়েছে ৪৯ হাজার ৫৯৫ জন।


পাসের হারে বরিশাল এগিয়ে, পিছিয়ে যশোর 


সাধারণ ৯টি শিক্ষা বোর্ডের মধ্যে পাসের হারে পিছিয়ে পড়েছে যশোর শিক্ষা বোর্ড। বোর্ড কর্মকর্তারা জানান, ইংরেজি পরীক্ষা কঠিন হওয়ার কারণে অনেক শিক্ষার্থী কাঙ্ক্ষিত ফল থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এ কারণে এই বোর্ডে শিক্ষার্থীদের পাসের হার কমেছে, প্রভাব পড়েছে জিপিএ ৫ প্রাপ্তিতে। যশোর বোর্ডে পাসের হার ৬৯.৮৮ শতাংশ।


৮০.৬৫ শতাংশ পাসের হার নিয়ে প্রথম স্থানে বরিশাল শিক্ষা বোর্ড। শিক্ষা বোর্ডগুলোর মধ্যে পাসের হার ঢাকায় ৭৯.৪৪ শতাংশ, রাজশাহীতে ৭৮.৪৬ শতাংশ, কুমিল্লায় ৭৫.৩৯ শতাংশ, দিনাজপুরে ৭৪.৪৮ শতাংশ, চট্টগ্রামে ৭৪.৪৫ শতাংশ, সিলেটে ৭১.৬২ শতাংশ ও ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডে ৭০.৪৪ শতাংশ। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৯১.২৫ শতাংশ ও মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৯০.৭৫ শতাংশ।


বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীরা এগিয়ে


পাসের হারে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা এগিয়ে। তাদের পাসের হার ৮৭.৮৪ শতাংশ। মানবিক বিভাগে পাসের হার ৭০.৭৯ শতাংশ ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৭৭ শতাংশ।

রবিবার, ২৬ নভেম্বর, ২০২৩

যশোর আইনজীবী সমিতির নেতৃত্বে মোর্তজা ও শাহীন

যশোর আইনজীবী সমিতির নেতৃত্বে মোর্তজা ও শাহীন



 যশোর জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে সভাপতি পদে আবু মোর্তজা ছোট ও সাধারণ সম্পাদক পদে শাহানুর আলম শাহীন নির্বাচিত হয়েছেন। শনিবার সকাল ১০টা থেকে বেলা সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ শেষে রাত ১০টার দিকে ফল ঘোষণা করা হয়।

ঘোষিত ফল অনুযায়ী, নির্বাচনে সভাপতি পদে আবু মোর্তজা ৩১৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের ইদ্রিস আলী পেয়েছেন ১৯৫ ভোট। এছাড়া সাধারণ সম্পাদক পদে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের একাংশের প্রার্থী শাহানুর আলম শাহীন ২৭৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী খালেদ হাসান জিউস পেয়েছেন ২২০ ভোট। এছাড়া সাধারণ সম্পাদক পদে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের গোলাম মোস্তফা মন্টু পেয়েছেন ২১ ভোট। নির্বাচনে ইদ্রিস-জিউস প্যানেলের ভরাডুবি হয়েছে। ১৩ পদের মধ্যে তারা ১১ পদে প্রার্থী দিয়ে মাত্র তিনটি পদে জয়লাভ করেছেন।

সহসভাপতি পদে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের মঞ্জুর কাদির আশিক ২৭১ ও গাজী মুহা. মাহাফুজুর রহমান ২৩৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। যুগ্ম সম্পাদক পদে ঐক্য ফোরামের জুলফিকার আলী জুলু ৩১৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। সহকারী সম্পাদকের দুই পদে ইদ্রিস জিউস প্যানেলের আফরোজা সুলতানা রনি ২৮৪ ও ফোরামের তাহমিদ আকাশ ২৩৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। গ্রন্থাগার সম্পাদক পদে আবারো জয়লাভ করেছেন ঐক্য ফোরামের মুস্তাকিন মোস্তফা খান। 

ময়মনসিংহের পরিবর্তে জামালপুর থেকে ছাড়বে বিজয় এক্সপ্রেস

ময়মনসিংহের পরিবর্তে জামালপুর থেকে ছাড়বে বিজয় এক্সপ্রেস



 আগামী ১ ডিসেম্বর ময়মনসিংহের স্টার্টিং পয়েন্ট পরিবর্তন হয়ে জামালপুর স্টেশন থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে ছেড়ে যাবে বিজয় এক্সপ্রেস ট্রেন। ১৫ নভেম্বর চট্টগ্রাম রেলওয়ে বিভাগের সহকারী চিফ অপারেটিং সুপারিনটেনডেন্ট (পূর্ব) কামাল আক্তার হোসেন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে ট্রেনের সময়সূচি পরিবর্তন করা হয়। সেখানে বিজয় এক্সপ্রেসের স্টার্টিং পয়েন্ট ময়মনসিংহের পরিবর্তে জামালপুর করা হয়। যদিও নিয়ে ময়মনসিংহবাসী আন্দোলন করলেও বিষয়টি আমলে নেয়নি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, অর্থনৈতিকভাবে ময়মনসিংহ একটি গুরুত্বপূর্ণ জেলা। ব্যবসা-বাণিজ্যে দেশে ময়মনসিংহের অবদান অন্যতম। সে গুরুত্ব বিবেচনা করে ২০১৪ সালে দেশের বাণিজ্যিক নগরী চট্টগ্রামের সঙ্গে প্রথম আন্তঃনগর ট্রেন চালু হয়। এতে জেলার গুরুত্ব আরো বেড়ে যায়। ব্যবসায়ীরাও তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণ করেন। প্রায় ১০ বছর আগে চালু হওয়া আন্তঃনগর বিজয় এক্সপ্রেস ময়মনসিংহ রেলওয়ে স্টেশন থেকে সরাসরি চট্টগ্রাম স্টেশনে চলাচল করছিল। জামালপুরসহ ময়মনসিংহ বিভাগের অন্যান্য জেলার যাত্রীরা ময়মনসিংহ স্টেশন থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে যাত্রা করত। হঠাৎ ময়মনসিংহের স্টার্টিং পয়েন্ট পরির্বতন জামালপুর থেকে ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয় নভেম্বরে। বিষয়টি জানার পর ময়মনসিংহবাসী আন্দোলন শুরু করে। তার পরও সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছে রেলওয়ে।

এ বিষয়ে ময়মনসিংহের নারী উদ্যোক্তা আইনুন নাহার বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বিজয় এক্সপ্রেস ময়মনসিংহবাসীর আন্দোলনের একটি ফসল। এর স্টার্টিং পয়েন্ট পরিবর্তন করায় আমরা মর্মাহত। আমরা আন্দোলন করছি স্টার্টিং পয়েন্ট ময়মনসিংহ স্টেশনে বহাল রাখার জন্য।’

ময়মনসিংহ বিভাগীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম জানান, বিজয় এক্সপ্রেসের স্টার্টিং পয়েন্ট পরিবর্তন করা ময়মনসিংহবাসীর জন্য কষ্টের কারণ। ১০ বছর পর কেন স্টার্টিং পয়েন্ট পরিবর্তন করা হলো। ময়মনসিংহ থেকে অনেক যাত্রী চট্টগ্রাম যাতায়াত করে। ময়মনসিংহ যেমন প্রাচীন নগরী তেমনি চট্টগ্রামও প্রাচীন নগরী। উপমহাদেশের এ দুই প্রাচীন নগরীর সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যম পরিবর্তন কোনোভাবেই কাম্য নয়। এতে ময়মনসিংহের যাত্রীরা আসন পাবেন না।’

রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, বিজয় এক্সপ্রেস জামালপুর-চট্টগ্রাম রুটে চলাচলকারী প্রথম আন্তঃনগর ট্রেন হবে। এটি ২০১৪ সালের ১৯ ডিসেম্বর ময়মনসিংহবাসীর দাবির ফলে উদ্বোধন করা হয়। নতুন করে শোভন চেয়ার, এসি চেয়ার, এসি কেবিন ও নন এসি কেবিনসংবলিত ট্রেনের সর্বনিম্ন শোভন চেয়ারের ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৩০ টাকা। সর্বোচ্চ এসি কেবিনের ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৪৭৮ টাকা। এটি রাত ৮টা ১০ মিনিটে জামালপুর রেলওয়ে জংশন থেকে ছেড়ে গিয়ে ময়মনসিংহের পিয়ারপুর, ময়মনসিংহ, গৌরীপুর, আঠারবাড়ী, কিশোরগঞ্জ, সরারচর, ভৈরব, আখাউড়া, কুমিল্লা, লাকসাম, ফেনী, ভাটিয়ারী যাত্রাবিরতি শেষে ভোর ৫টায় চট্টগ্রাম রেলওয়ে জংশনে পৌঁছবে। মঙ্গলবার ছাড়া বাকি ছয়দিন নিয়মিত এ রুটে যাতায়াত করবে ট্রেনটি।

জামালপুর রেলওয়ে জংশনের স্টেশন মাস্টার আসাদুজ্জামান বলেন, ‘গত শনিবার অনলাইনে টিকিট ওপেন হয়েছে। আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে আন্তঃনগর বিজয় এক্সপ্রেস জামালপুর থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে ছেড়ে যাবে।’

এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় জিপিএ-৫ কমল

এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় জিপিএ-৫ কমল

পাসের খবরে উল্লসিত শিক্ষার্থীরা। রাজশাহী কলেজ, রাজশাহী, ২৬ নভেম্বরছবি: শহীদুল ইসলাম

চলতি বছরের (২০২৩) এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ফলের সর্বোচ্চ সূচক জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৯২ হাজার ৫৯৫ জন শিক্ষার্থী। গতবারের পরীক্ষায় পেয়েছিলেন ১ লাখ ৭৬ হাজার ২৮২ জন। এবার গড় পাসের হার ৭৮ দশমিক ৬৪।

আজ রোববার সকাল ১০টার পর গণভবনে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে কম্পিউটারের বোতাম চেপে আনুষ্ঠানিকভাবে এ পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর আগে সকাল ১০টার দিকে গণভবনে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে ফলাফলের অনুলিপি হস্তান্তর করেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি ও শিক্ষা বোর্ডগুলোর চেয়ারম্যানরা। এরপর পরীক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে পাসের হারের এ তথ্য জানা গেছে। এবার সারা দেশে মোট পরীক্ষার্থী ছিল পৌনে ১৪ লাখ।

আরও পড়ুন


গত ১৭ আগস্ট শুরু হয়েছিল এ বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। অবশ্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে চট্টগ্রাম এবং মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা কিছুদিন পর শুরু হয়েছিল। এবার পুনর্বিন্যাস করা পাঠ্যসূচি অনুযায়ী একটি ছাড়া সব বিষয়ে পূর্ণ নম্বর ও পূর্ণ সময়ে পরীক্ষা হয়েছে। শুধু তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) পরীক্ষা শেষ সময়ে এসে ১০০ নম্বরের পরিবর্তে ৭৫ নম্বরে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল।


ব্যাংক অ্যাকাউন্টে যেসব লেনদেন আয়করের আওতায় পড়বে

ব্যাংক অ্যাকাউন্টে যেসব লেনদেন আয়করের আওতায় পড়বে

 বাংলাদেশে প্রতিবছর ৩০শে নভেম্বরের মধ্যে আয়করের রিটার্ন দাখিল করতে হয়। প্রতিবছর আয়কর রিটার্ন জমা দেবার সময় ব্যাংকের হিসাব বিবরনী বা ব্যাংক স্টেটমেন্ট জমা দিতে হয়। ব্যাংক হিসেবে কোন লেনদেন আয়করের আওতায় পড়বে সেটি নিয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন থাকে।


আয়কর কর্তৃপক্ষের কাছে একজন করদাতার বার্ষিক আয়ের সংক্ষিপ্ত বিবরণ জমা দেয়াকে আয়কর রিটার্ন বলে। এখানে আয়, ব্যয় এবং সম্পদের পরিমাণ উল্লেখ করা হয়। একজন মানুষের বার্ষিক আয় কত সেটার ভিত্তিতে তার ওপর কর আরোপ হয়।

যারা আয়কর রিটার্ন জমা দেন তাদের অনেকের ক্ষেত্রে স্যালারি অ্যাকাউন্ট বা চলতি হিসাব অ্যাকাউন্ট রয়েছে।

আইন অনুযায়ী, একজন ব্যক্তি যখন তার আয়কর রিটার্ন জমা দেবেন, সেখানে সব ধরনের অ্যাকাউন্টের তথ্য জমা দিতে হবে।

কারও একাধিক ব্যাংক হিসাব থাকলেও আয়কর নথিতে সব অ্যাকাউন্টের তথ্য না দিয়ে শুধু একটি অ্যাকাউন্টের স্টেটমেন্ট দিয়ে রিটার্ন জমা দেন। সেক্ষেত্রে অনেক সময় দেখা যায়, আয়কর নথিতে যে আয় দেখানো হয়েছে, তার চেয়ে ব্যাংক লেনদেন বেশি।

তাতেই বিপত্তিতে পড়ার শঙ্কা বেড়ে যায়। কারণ আয়কর নথি বিভিন্ন সময় পর্যালোচনা করেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কর্মকর্তারা।

যদি দেখা যায়, কেউ তার ব্যাংক হিসাবের তথ্য জমা দেননি, তখন সেটি অপ্রদর্শিত আয় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তখন জরিমানা করার বিধান রয়েছে বলে জানিয়েছেন আয়কর আইনজীবীরা।

আয়কর আইনজীবী এবং সুপ্রিমকোর্টের অ্যাডভোকেট সাকিল আহমাদ জানান, আয়কর রিটার্নে যে আয় দেখানো হয়েছে, তার চেয়ে বেশি আয় বা অপ্রদর্শিত আয় পাওয়া গেলে তার ওপর জরিমানাসহ কর দিতে হয়।

এক্ষেত্রে আগে যে আয়কর পরিশোধ করা হয়েছে, তা যদি নতুন করে ধার্য করা করের ৭৫% এর কম হয়ে থাকে, তাহলে ১০ শতাংশ হারে সুদ দিতে হবে। তবে আগে পরিশোধ করা কর নতুন নির্ধারিত করের ৭৫ শতাংশের বেশি হলে আর জরিমানা হবে না।

মতিঝিলের ব্যাংক পাড়া।

ছবির উৎস,GETTY IMAGES

ছবির ক্যাপশান,

মতিঝিলের ব্যাংক পাড়া।

ব্যাংকে যে লেনদেন হবে তা অবশ্যই আয়কর নথিতে প্রদর্শিত আয়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। অন্য কোন প্রকার লেনদেন হলে তার যুক্তিসঙ্গত ব্যাখ্যা থাকতে হবে।

ব্যাংক থেকে প্রাপ্ত মোট সুদ বা মুনাফা অন্যান্য উৎসের আয় হিসেবে দেখাতে হবে। উৎসে কর প্রদেয় করের সাথে সমন্বয় হবে।

আইনজীবীরা বলছেন, ব্যাংক হিসাবের কোন তথ্য গোপন রাখা যাবে না। কর ফাঁকি রোধে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে করদাতাদের ব্যাংক হিসাবের তথ্যে সরাসরি প্রবেশাধিকার চেয়েছে।

এর ফলে রাজস্ব বোর্ড করদাতা ও ব্যবসায়ীদের ব্যাংকিং লেনদেনের তথ্য খুব সহজেই জানতে পারবে, যা তাদের লেনদেন, ঋণ ও বিনিয়োগসহ সব ধরণের আর্থিক লেনদেন নজরদারিতে সহায়তা করবে।

তবে এতে ব্যাংকের গ্রাহকদের ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা হুমকির মুখে পড়বে বলে অনেক আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। আবার গ্রাহকদের মধ্যে ভীতি তৈরি হলে ব্যাংকে তারা নগদ টাকা রাখা বা লেনদেন কমে যেতে পারে। ফলে ব্যাংকগুলোয় তারল্য সংকট তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, বাংলাদেশে গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ছিল ১৩ কোটি ৬২ লাখের মতো, যেখানে প্রায় ১৬ লাখ কোটি টাকা জমা ছিল । এরমধ্যে ১ কোটি টাকার উপরে লেনদেন হয়েছে, এমন অ্যাকাউন্টের পরিমাণ প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার।

এনবিআর-এর ভ্যাট অনলাইন প্রজেক্ট অফিসের হিসাব অনুযায়ী, দেশে বিজনেস আইডেন্টিফিকেশন (বিআইএন) নম্বরধারীর সংখ্যা ৪ লাখ ৫৭ হাজার, যার মধ্যে গত মাসে কর রিটার্ন জমা হয়েছে ৩ লাখের বেশি।

অর্থাৎ, বিআইএন হোল্ডারদের এক-তৃতীয়াংশও রিটার্ন জমা দিচ্ছে না। এমন আরও অনেক কর ফাঁকির কথা আইনজীবীরাও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে জানিয়েছেন।

তবে কারও যদি একাধিক ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থাকে, সেসব অ্যাকাউন্টে যদি তারা লেনদেন করে থাকেন, তাহলে সেইসব অ্যাকাউন্টের তথ্যও আয়কর বিবরণীতে সংযুক্ত করতে হবে।

টাকা

ছবির উৎস,GETTY IMAGES

ছবির ক্যাপশান,

কর ফাঁকি রোধে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে করদাতাদের ব্যাংক হিসাবের তথ্যে সরাসরি প্রবেশাধিকার চেয়েছে।

অনেক সময়, ব্যাংক অ্যাকাউন্টে রেমিটেন্স পাঠিয়ে থাকেন, যিনি রেমিটেন্স পাঠিয়েছেন তিনি যদি রক্তের সম্পর্কের আত্মীয় হন, অথবা স্বামী বা স্ত্রী হন, তাহলে ওই অর্থের ওপর কোন আয়কর হবে না।

কিন্তু রক্তের সম্পর্কের বাইরে কেউ রেমিটেন্স পেলে বা বিদেশ থেকে অ্যাকাউন্টে অর্থ আসলে তার ওপর আয়কর প্রযোজ্য হবে। কেননা তখন সেই অর্থকে আয় বলে বিবেচনা করা হবে।

ব্যাংক হিসেবের মাধ্যমে ঋণ নিলে এর ওপর কোন আয়কর আরোপ হবে না। তবে শর্ত হচ্ছে সেই ঋণ তিন বছরের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে অথবা পরবর্তীতে নবায়ন করতে হবে।

সবশেষ আয়কর নীতিমালা অনুযায়ী, পুরুষদের ক্ষেত্রৈ কারও যদি বার্ষিক আয় সাড়ে তিন লাখ টাকা বা তার কম হয় তাহলে মোট আয়ের উপর কোন আয়কর দিতে হবে না। নারীদের ক্ষেত্রে এই পরিমাণ ৪ লাখ টাকা।

তবে আয় বার্ষিক সাড়ে তিন লাখের বেশি হলে (নারীদের ৪ লাখ) মোট আয়ের পরবর্তী এক লাখ টাকার উপর ৫%, পরবর্তী তিন লাখ টাকার ওপর মোট আয়ের ১০% আয়কর দিতে হবে।

পরবর্তী ৪,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত মোট আয়ের উপর ১৫% আয়কর এবং পরবর্তী ৫,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত মোট আয়ের উপর ২০% আয়কর দিতে হবে।

অবশিষ্ট মোট আয়ের উপর ২৫% আয়কর দিতে হবে। সাধারণত মাসিক আয় পঁচিশ হাজার টাকা বা তার বেশি হলে, বা বেসিক আয় ১৬ হাজার টাকা বা তার বেশি হলে আয়করের আওতাভুক্ত হয়ে পড়ে।

নারী করদাতা এবং ৬৫ বছর বা তার চেয়ে বেশি বয়সী করদাতার করমুক্ত আয়ের সীমা হবে চার লাখ টাকা। তৃতীয় লিঙ্গ, প্রতিবন্ধী করদাতার করমুক্ত আয়ের সীমা হবে চার লাখ ৭৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। গেজেট-ভুক্ত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা করদাতার করমুক্ত আয়ের সীমা হবে পাঁচ লাখ টাকা।

কোন প্রতিবন্ধী ব্যক্তির পিতামাতা বা আইনানুগ অভিভাবকের প্রত্যেক সন্তান ও পোষ্যের জন্য করমুক্ত আয়ের সীমা ৫০ হাজার টাকার বেশি হবে। তবে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি বাবা ও মা দুজনই করদাতা হলে, যেকোনো একজন এই সুবিধা ভোগ করবেন।

ব্যাংকনোট

ছবির উৎস,GETTY IMAGES

এদিকে, ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংকে পাঁচ লাখ টাকার বেশি হিসাব খুলতে এখন থেকে রিটার্ন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

জাতীয় সঞ্চয়পত্র অধিদফতর ও সরকারি গেজেট অনুযায়ী, সঞ্চয়পত্র ও ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংক হিসাবে পাঁচ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে অর্থ আইন, ২০২২-এর ৪৮ ধারা যথাযথ পরিপালনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

যদি ব্যাংক হিসাবে জমা টাকার পরিমাণ ১০ লাখ টাকা অতিক্রম করে তাহলে ব্যাংকে রিটার্ন জমার প্রমাণপত্র দিতে হবে।

সেইসাথে পাঁচ লাখ টাকার বেশি ব্যাংক ঋণ আবেদনে বা ক্রেডিট কার্ড নেয়ার ক্ষেত্রেও রিটার্ন জমার প্রমাণপত্র দিতে হবে।

ব্যাংকে আমানত থেকে যে সুদ আয় হয়ে থাকে, রিটার্ন জমা দেয়া হলে ১০ শতাংশ হারে উৎস কর কেটে রাখে ব্যাংক। কিন্তু রিটার্ন জমা না দেয়া হলে ১৫ শতাংশ হারে উৎসে কর কেটে রাখবে।

এদিকে নিয়ম অনুযায়ী, ব্যাংকে টাকা রাখলে কর কেটে রাখে সরকার। একে বলা হয় আবগারি শুল্ক বা এক্সাইজ ডিউটি। বছর শেষে আমানতকারীদের আ্যকাউন্টে যে পরিমাণ স্থিতি থাকে তার বিপরীতে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা কেটে রাখে ব্যাংকগুলো।

পরে কেটে রাখা অংশ সরকারি কোষাগারে জমা হয়। কারও ব্যাংক হিসাবে সঞ্চিত টাকার পরিমাণ নির্দিষ্ট সীমা অতিক্রম করলে প্রযোজ্য হারে ওই টাকা আবগারি শুল্ক হিসাবে কেটে নেয়া হয়।

সাধারণত একজন গ্রাহকের অ্যাকাউন্টে জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত যদি এক লাখ টাকার কম জমা থাকলে কোনও আবগারি শুল্ক আরোপ করা হয় না।

তবে এক লাখ থেকে পাঁচ লাখ পর্যন্ত টাকা থাকলে ১৫০ টাকা এবং পাঁচ লাখ থেকে ১০ লাখ পর্যন্ত থাকলে ৫০০ টাকা আবগারি শুল্ক দিতে হয়।

এ ছাড়া ১০ লাখ থেকে এক কোটি টাকায় তিন হাজার টাকা। এক কোটি থেকে পাঁচ কোটি টাকায় ১৫ হাজার টাকা এবং পাঁচ কোটি টাকার ওপরে থাকলে ৪০ হাজার টাকা আবগারি শুল্ক আরোপ হয়।

প্রতিবছর সঞ্চয়ী হিসাব থেকে আবগারি শুল্ক কেটে রাখে ব্যাংক। মূলত জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর মাসের সঞ্চয়ের উপর ভিত্তি করে আবগারি শুল্ক কেটে নেয়া হয়।