বাংলাদেশ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
বাংলাদেশ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শনিবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৩

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে চলন্ত বাস থামিয়ে আগুন

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে চলন্ত বাস থামিয়ে আগুন

 

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে চলন্ত বাস থামিয়ে যাত্রীদের মারধর করে একটি বাসে আগুন দিয়েছে এক দুর্বৃত্ত। শনিবার (২৮ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে মহাসড়কের মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ার বক্তারকান্দিতে এ ঘটনা ঘটে।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে চলন্ত বাস থামিয়ে অগ্নিসংযোগ। ছবি: সময় সংবাদ

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত ১০টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দাউদকান্দিগামী চলন্ত মিনিবাস থামিয়ে যাত্রীদের মারধর করে এবং বাসে আগুন দিয়ে পালিয়ে যায় এক দুর্বৃত্ত। এতে এক যাত্রী আহত হন।


পরে গজারিয়া ফায়ার স্টেশন আগুন নিয়ন্ত্রণ করে। কিন্তু এর আগেই নারায়ণগঞ্জের মোগড়াপাড়া-দাউদকান্দি রুটের মিনিবাসটি পুরে যায়। 

গজারিয়া ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার রিফাত মল্লিক জানান, বাসটিতে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছিল। খবর পেয়ে দ্রুত তারা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। দুর্বৃত্তের হামলায় আহত যাত্রীকে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়। মহাসড়কটিতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে বলে জানান ফায়ার সার্ভিসের ওই কর্মকর্তা।

যেভাবে তাণ্ডব ও সহিংসতায় মেতে ওঠে বিএনপি-জামায়াত

যেভাবে তাণ্ডব ও সহিংসতায় মেতে ওঠে বিএনপি-জামায়াত

 


আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সমাবেশের নামে ফের ষড়যন্ত্র, তাণ্ডব ও সহিংসতায় মেতে উঠেছে বিএনপি-জামায়াত। শনিবার (২৮ অক্টোবর) তাদের হামলায় এক পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৫০ জনেরও বেশি পুলিশ সদস্য। তাদের হামলা থেকে রেহাই পায়নি রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সও।
শনিবার (২৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় বিআরটিসির একটি বাস েআগুনে জ্বালিয়ে দেয় বিএনপির নেতাকর্মীরা। ছবি: সময় সংবাদ

বিএনপি ভুল রাজনীতি করছে মন্তব্য করে বিশ্লেষকরা বলছেন, ‘তারা খোলস ছেড়ে বেরিয়ে এসেছে। আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ভন্ডুল করতে তারা সহিংসতার আশ্রয় নিচ্ছে। সংঘাতে জড়িয়ে বিএনপি বিপজ্জনক পথে অগ্রসর হচ্ছে। ২০১২, ২০১৩ ও ২০১৪ সালেও তারা এমন সংঘর্ষে জড়িয়েছিল। তখন রাজশাহীতে পিটিয়ে পুলিশ হত্যা করেছিল বিএনপি-জামায়াত।’


পুলিশ সদস্য নিহত


রাজধানীর ফকিরাপুল চার রাস্তার মোড়ে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের হামলার শিকার হয়ে পুলিশের এক কনস্টেবল নিহত হয়েছেন। তার নাম পারভেজ। বাড়ি মানিকগঞ্জের দৌলতপুরে। শনিবার (২৮ অক্টোবর) বিকেল ৪টার দিকে মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সোয়া ৪টায় মৃত ঘোষণা করেন।

 

তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মেডিকেলের জরুরি বিভাগের আবাসিক সার্জন ডা. মোহাম্মদ আলাউদ্দিন।

তিনি বলেন, ‘মৃত অবস্থায়ই ওই পুলিশ সদস্যকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছিল। তার মাথায় গুরুতর আঘাত রয়েছে। আমরা ইসিজি করার পর নিশ্চিত হয়ে তাকে মৃত ঘোষণা করেছি।’

ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (মিডিয়া) কে এন রায় জানান, সংঘর্ষের মধ্যে আহত প্রায় অর্ধশত পুলিশ সদস্যকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল ও রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
 

বিএনপি-জামায়াতের হামলায় আহত পুলিশ সদস্য। ছবি: সময় সংবাদ


ডিএমপি জানিয়েছে, বিএনপির হামলায় রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে ২২ জন এবং ঢামেক হাসপাতালে ১৯ জন আহত পুলিশ সদস্য চিকিৎসাধীন।


প্রধান বিচারপতির বাসভবনে হামলা, পুলিশ বক্সে আগুন


রাজধানীর নয়া পল্টনে সমাবেশ উপলক্ষে কাকরাইলে আসা বিএনপি কর্মীরা প্রধান বিচারপতির বাসভবনের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ এবং বাসভবনে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেছে। এ ছাড়া কাকরাইল পুলিশ বক্সেও আগুন দিয়েছে তারা।

 

প্রধান বিচারপতির বাসভবনের নিরাপত্তায় নিয়োজিত নুরুজ্জামান নামে একজন পুলিশ কনস্টেবল বলেন, বাইরের গার্ড রুমের দরজা ও জানালার কাচ এবং প্রধান বিচারপতির নামফলকের কাচ ভাঙচুর করেছে হামলাকারীরা। এ সময় কাকরাইল চার্চের সামনের পুলিশ বক্সও পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে।


বিজয়নগরে বাসে আগুন, ছড়িয়ে পড়ছে পাশের ভবনে


রাজধানীর বিজয়নগরে একটি বাসে আগুন দিয়েছে বিএনপি-জামায়াতের কর্মীরা। শনিবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে নাইটিঙ্গেল মোড়ে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা বাসটিতে আগুন দেয় তারা।


ঘটনাস্থল থেকে সময় সংবাদের প্রতিবেদকের পাঠানো ভিডিওতে দেখা গেছে, আগুনে দাউ দাউ করে জ্বলছে যাত্রীবাহী এশিয়া লাইন পরিবহনের বাসটি। সেখান থেকে পাশের ভবনেও ছড়িয়ে পড়ছে আগুন। উপরের বৈদ্যুতিক তার পর্যন্ত আগুন পৌঁছে যাওয়ায় পাশের খুঁটিতে বিস্ফোরণ হতে দেখা যায়।

বাসটির পাশেই রাস্তায় বসে কাঁদতে কাঁদতে চালক মনির হোসেন জানান, আজ তার বাসে পুলিশ সদস্যদের আনা-নেয়া করছিলেন। একদল পুলিশ সদস্যকে নিয়ে বিকেল ৫টায় তিনি এখানে আসেন। পুলিশ সদস্যরা নেমে যাওয়ার কিছুক্ষণ পরই বাসে আগুন দেয়া হয়।
 

বিজয়নগরে বিএনপির দেয়া আগুনে পুড়ছে এশিয়া লাইন পরিবহনের বাস। ছবি: ভিডিও থেকে নেয়া 


এর আগে কাকরাইল, ফকিরাপুলসহ আশপাশের বিভিন্ন জায়গায় পুলিশের ওপর ব্যাপক হামলা চালায় বিএনপি-জামায়াত কর্মীরা। রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে আগুন দেয় তারা।

 


রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্সসহ সাত গাড়িতে আগুন


রাজারবাগ পুলিশ লাইনস হাসপাতাল চত্বরে ঢুকে সাতটি গাড়ি আগুনে পুড়িয়ে দিয়েছে বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীরা। এর মধ্যে একটি অ্যাম্বুলেন্স, একটি মাইক্রোবাস ও পাঁচটি মোটরসাইকেল রয়েছে।


শনিবার বিকেল ৩টার দিকে হাসপাতাল চত্বরে ঢুকে গাড়িগুলোতে আগুন দেয়া হয়। এ সময় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগী ও স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঘণ্টাখানেক পর পরিবেশ শান্ত হয়।

পুলিশ লাইনস হাসপাতাল থেকে কয়েক মিনিটের দূরত্বে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে দুপুরে বিএনপির সমাবেশ ছিল। এ উপলক্ষে সেখানে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীও সমবেত হয়েছিল। কিন্তু দুপুরের দিকে সহিংসতায় মেতে ওঠে তারা। এতে তাদের সমাবেশ পণ্ড হয়ে যায়।


সাংবাদিকরা বিএনপি-জামায়াতের হামলার প্রধান শিকার


শান্তিপূর্ণ সমাবেশের ডাক দিয়ে রাজধানীতে রীতিমতো তাণ্ডব চালিয়েছে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীরা। পুলিশের ওপর হামলা, সরকারি স্থাপনায় অগ্নিসংযোগ, সাংবাদিকদের ব্যাপক মারধরের অভিযোগ উঠেছে বিএনপি ও জামায়াতের বিরুদ্ধে। তাদের হামলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ৪১ সদস্যসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের অন্তত ২০ থেকে ২৫ জন সাংবাদিক আহত হয়েছেন।


ঘোষণা ছিল শান্তিপূর্ণ সমাবেশের। লোক সমাগম হওয়ার কথা শনিবার (২৮ অক্টোবর) দুপুর ২টা থেকে। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের অনেক আগে থেকেই বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসতে থাকে বিএনপির নেতাকর্মীরা। তাদের হাতে ছিল লাঠি। কাকরাইল মোড়ে তারা শুরু করে গাড়ি ভাঙচুর।

একটি বাস ও কয়েকটি পিকআপে করে আসা আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা কাকরাইলে নেমে বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে শান্তি ও উন্নয়ন সমাবেশে যোগ দিতে যাওয়ার সময় বিএনপির সমাবেশ থেকে আওয়ামী লীগের এক কর্মীকে লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয়। পরে বাগ্‌বিতণ্ডার একপর্যায়ে সংঘর্ষ শুরু হয়। পরে বিএনপি নেতাকর্মীরা গাড়ি ভাঙচুর শুরু করে।

একপর্যায়ে কাকরাইল এলাকা পরিণত হয় রণক্ষেত্রে। ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে। আগুন দেয়া হয় পুলিশ বক্সে। এমনকি এ সময় প্রধান বিচারপতির বাসভবনে ঢিল ছুড়তে দেখা যায় বিএনপি নেতাকর্মীদের। বাদ যায়নি গণমাধ্যমের গাড়িও। সময় টিভির গাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা হয়। বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেলে আগুন দেয়া হয়।
 

সাংবাদিককে মারধর করছে বিএনপি-জামায়াতের কর্মীরা। ছবি: সময় সংবাদ


বিএনপি-জামায়াতের হামলায় আহত সাংবাদিকরা হলেন: নিউ এইজের আহমেদ ফয়েজ, বাংলা ট্রিবিউনের প্রধান প্রতিবেদক সালমান তারেক শাকিল, ফটো সাংবাদিক সাজ্জাদ হোসেন ও নিজস্ব প্রতিবেদক জোবায়ের আহমেদ, দৈনিক কালবেলার প্রতিবেদক রাফসান জানি, আবু সালেহ মুসা, রবিউল ইসলাম রুবেল এবং তৌহিদুল ইসলাম তারেক, ঢাকা টাইমসের প্রতিবেদক সালেকিন তারিন, ব্রেকিং নিউজের ক্রাইম রিপোর্টার কাজী ইহসান বিন দিদার, দৈনিক ইনকিলাবের ফটো সাংবাদিক এফ এ মাসুম, দৈনিক ইত্তেফাকের মাল্টিমিডিয়ার রিপোর্টার তানভীর আহাম্মেদ, একুশে টিভির রিপোর্টার তৌহিদুর রহমান ও ক্যামেরাপারসন আরিফুর রহমান, দৈনিক দেশ রূপান্তর পত্রিকার সাংবাদিক আরিফুর রহমান রাব্বি, ইত্তেফাকের সাংবাদিক শেখ নাছের ও ফ্রিল্যান্সার মারুফ, ভোরের কাগজের ফটো সাংবাদিক মো. মাসুদ পারভেজ আনিস, নুরুজ্জামান শাহাদাৎ ও ক্যামেরাপারসন আরিফুল ইসলাম পনি।


রাফসানের সঙ্গে থাকা কালবেলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রাজন ভট্টাচার্য জানান, কাকরাইল মোড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বিএনপির নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ চলাকালে ভিডিও ফুটেজ নিচ্ছিলেন সাংবাদিক রাফসান জানি। পুলিশের ওপর হামলার এই ফুটেজ সংগ্রহকালে বিএনপির কর্মীরা রাফসানের ওপর হামলা চালায়।

তিনি আরও বলেন, এ সময় রাফসানের গলায় কালবেলার আইডিকার্ড ঝোলানো থাকলেও তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। হামলায় তার সারা শরীর ক্ষতবিক্ষত হয়েছে। এছাড়া তার মোবাইল ফোনটিও ছিনিয়ে নেয় হামলাকারীরা।

00:00
01:45

বৃহস্পতিবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৩

মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিমান বানিয়ে বিশাল ক্ষতির শিকার বোয়িং

মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিমান বানিয়ে বিশাল ক্ষতির শিকার বোয়িং

ছবি: এএফপি

 বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান কোম্পানি বোয়িং। মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিমান এয়ারফোর্স ওয়ানের বহরে নতুন জেট সরবরাহ করতে গিয়ে সেই ক্ষতির বোঝা আরও বাড়ছে বলে জানিয়েছে সিএনএন।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিমানবহরে ভবিষ্যতের জন্য দুটি ৭৪৭ জেট সজ্জিত করতে বোয়িং যে চুক্তি করেছে, তাতে কোম্পানির আরও ৪৮ কোটি ২০ লাখ ডলার ক্ষতি হয়েছে। এখন সব মিলিয়ে প্রতিটি জেটে তাদের ১০০ কোটি ডলারের বেশি ক্ষতি হচ্ছে। কোম্পানির সর্বশেষ আর্থিক প্রতিবেদনের সূত্রে এই তথ্য দিয়েছে সিএনএন।


অনেক দিন ধরেই ক্ষতির মুখে আছে বোয়িং। কোম্পানির প্রধান নির্বাহী ডেভ ক্যালহুন বলেছেন, ৩৯০ কোটি ডলারের বিনিময়ে জেট বিমান দুটি তৈরির চুক্তি করা তাদের কখনোই উচিত হয়নি। এরপর ব্যয় বেড়ে গেছে এবং বিমান সরবরাহের সময় পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। এসব বিমান তৈরিতে কোম্পানিটি ২০২২ সালে ক্ষতির শিকার হয়েছে ১৪৫ কোটি ডলার আর ২০২১ সালে ক্ষতির পরিমাণ ছিল ৩১ কোটি ৮০ লাখ ডলার।

বোয়িংয়ের সিইও ডেভ ক্যালহুন বলেন, এই চুক্তি করে বোয়িং হয়তো ভুল করেছে। শেষ যে ক্ষতিটা হলো তার কারণ হলো প্রকৌশলগত পরিবর্তন, শ্রমিক অসন্তোষ ও সরবরাহজনিত সমস্যা।

সাধারণত প্রতিরক্ষা চুক্তিতে ব্যয় বাড়লে তার ভার করদাতাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাপে পড়ে বোয়িং স্থির মূল্যে দুটি নতুন জেট তৈরিতে রাজি হয়। এ ধরনের চুক্তি ঝুঁকিপূর্ণ, কারণ যেকোনো সময় অপ্রত্যাশিত কারণে উপকরণ ব্যয় বেড়ে যেতে পারে। এসব চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও বোয়িং প্রতিশ্রুত উড়োজাহাজ সরবরাহে অঙ্গীকারবদ্ধ।

এয়ারফোর্স ওয়ান বিমান তৈরি ছাড়াও অন্য কারণেও বোয়িং ক্ষতির মুখে পড়েছে। দুটি বড় দুর্ঘটনার পর বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স জেটের উড়ান বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে ২০১৯ সালের পর প্রায় প্রতি প্রান্তিকেই বোয়িংয়ের ক্ষতি হয়েছে। এখন পর্যন্ত সব মিলিয়ে তাদের ২৫ দশমিক ৫ বিলিয়ন বা ২ হাজার ৫৫০ কোটি ডলার ক্ষতি হয়েছে।

বুধবার প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদনে বোয়িং ১১০ কোটি ডলার পরিচালন ক্ষতির কথা উল্লেখ করেছে, যদিও বিশ্লেষকেরা এতটা ক্ষতির পূর্বাভাস দেননি। তবে কোম্পানির রাজস্বও বেড়েছে প্রত্যাশাতীত—রাজস্ব ১৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১৮ দশমিক ১ বিলিয়ন বা ১ হাজার ৮১০ কোটি ডলারে উন্নীত হয়েছে। সেই সঙ্গে উৎপাদন বৃদ্ধির পরিকল্পনাও সমন্বয় করেছে বোয়িং। বছরের শেষ নাগাদ তারা প্রতি মাসে পাঁচটি ৭৮৭ জেট ও ৩৮টি ৭৩৭ ম্যাক্স উৎপাদন করতে চায়।

বিপুল ক্ষতি সত্ত্বেও কোম্পানির নগদ অর্থপ্রবাহ ইতিবাচক থাকবে বলেই মনে করছে বোয়িং। এতে আজ প্রাক্‌–বাজার লেনদেনে বোয়িংয়ের শেয়ারের দাম ৩ শতাংশ বেড়েছে।

মহাখালীর খাজা টাওয়ারে আগুন: আরেক প্রকৌশলীর মৃত্যু

মহাখালীর খাজা টাওয়ারে আগুন: আরেক প্রকৌশলীর মৃত্যু

আটকে পড়া এক নারীকে উদ্ধারের চেষ্টা করছেন ফায়ার সার্ভিসের এক সদস্য।
ছবি: শুভ্র কান্তি দাশ

রাজধানীর মহাখালীর বহুতল ভবন খাজা টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের নিয়ে এ ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে তিনজন হয়েছে।  
এই দুজন হলেন, মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম (৬৩) ও আকলিমা রহমান (৩১)।

রফিকুল পেশায় প্রকৌশলী। তিনি সাইফ পাওয়ারটেক নামের একটি প্রতিষ্ঠানের প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর ছিলেন। এই প্রতিষ্ঠানের কার্যালয় ছিল খাজা টাওয়ারের ১৩তলায়। আর আকলিমা ভবনটির নবম তলায় একটি কল সেন্টারে কাজ করতেন।

রফিকুলকে ভবন থেকে উদ্ধার করে রাত সোয়া ১২টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। আর আকলিমাকে ঢাকা মেডিকেলে আনা হয় রাত সোয়া ১টার দিকে। তাঁদের দুজনের লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে রাখা হয়েছে বলে মেডিকেল পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক বাচ্চু মিয়া জানিয়েছেন।

ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন চারপাশ, তার মধ্যে একজনকে উদ্ধার করে নিয়ে আসা হচ্ছে।
ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন চারপাশ, তার মধ্যে একজনকে উদ্ধার করে নিয়ে আসা হচ্ছে।
ছবি: শুভ্র কান্তি দাশ

এর আগে সন্ধ্যায় এ ঘটনায় হাসনা হেনা (২৭) নামের এক নারীর মৃত্যু হয়। হাসনা হেনা ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান রেস অনলাইন লিমিটেডের সেলস ইনচার্জ ছিলেন।

ইন্টারনেটের তার বেয়ে ভবন থেকে নামতে গিয়ে তিনি নিচে পড়ে মারা গেছেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। তাঁকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে সন্ধ্যা ৬টার দিকে মহাখালীর ঢাকা মেট্রোপলিটন হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসেকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।  

বুধবার বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে মহাখালীর আমতলী এলাকার ১৪ তলা ওই ভবনে আগুনের সূত্রপাত হয়। ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, আগুনের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা গিয়ে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করেন। উদ্ধারকাজে যোগ দেন সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, পুলিশ, র‌্যাব, আনসারসহ স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সদস্যরা।

ভবনের আগুন নিয়ন্ত্রণে সেখানে পানি ফেলা হচ্ছে অনবরত।
ভবনের আগুন নিয়ন্ত্রণে সেখানে পানি ফেলা হচ্ছে অনবরত।
ছবি: শুভ্র কান্তি দাশ

রাত ১২টার দিকে ঘটনাস্থলে সংবাদ সম্মেলনে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাইন উদ্দিন বলেন, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা গেলেও পুরোপুরি নেভাতে আরও সময় লাগবে। তিনি আরও বলেন, ভবন থেকে ৩ নারীসহ ১০ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, আগুনের সূত্রপাত কোন তলা থেকে, সেটি এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আগুন লাগার পর ভবনের বিভিন্ন তলা থেকে নানাভাবে লোকজন নামার চেষ্টা করেন। ওই ভবনের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কেউ কেউ পাশের ভবনের ছাদ দিয়ে, কেউবা ইন্টারনেটের তার বেয়ে নিচে নামেন।

সন্ধ্যা পৌনে সাতটার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, খাজা টাওয়ারের সামনের দিক থেকে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দুটি যন্ত্র দিয়ে পানি ছিটাচ্ছেন ও ভেতরে আটকে থাকা ব্যক্তিদের উদ্ধারে কাজ করছেন। এ সময় ভবনটির ১১, ১২ ও ১৩ তলায় আগুন ও ধোঁয়া দেখা যায়। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ১০ তলা থেকে ওপরের দিকে ১৪ তলা পর্যন্ত ভবনের কাচের দেয়াল ভেঙে আগুন নেভানোর কাজ করেন।

আগুন লাগার সময় খাজা টাওয়ারের ১২ তলায় ছিলেন সালমান হোসেন। তিনি সাইফ পাওয়ারটেকের সহকারী ব্যবস্থাপক। তিনি জানান, বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে আগুন লাগার বিপৎসংকেত (ফায়ার অ্যালার্ম) শুনে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামছিলেন তিনি। কিন্তু নিচের দিক থেকে আসা ধোঁয়ার কারণে আর নামতে পারেননি তিনি। পরে আবার ১২ তলায় উঠে যান। সেখান থেকে ভবনের পেছনের দিকে থাকা অন্য আরেকটি সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামেন তিনি।

সালমান হোসেনের ভাষ্য, ‘সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামার সময় দেখি, পঞ্চম তলায় (লিফটের-৪) দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে। ওই আগুনই ভবনে ছড়িয়েছে।’
ঢাকা মেডিকেল কলেজ সূত্র জানায়, মহাখালীর ঘটনায় শ্বাসকষ্ট নিয়ে চারজন শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি হয়েছেন।

 

সরকারের একগুঁয়েমির কারণে চূড়ান্ত সংঘাতের দিকে যাচ্ছে দেশ: বাম গণতান্ত্রিক জোট

সরকারের একগুঁয়েমির কারণে চূড়ান্ত সংঘাতের দিকে যাচ্ছে দেশ: বাম গণতান্ত্রিক জোট

জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাম গণতান্ত্রিক জোট সমাবেশ করে
ছবি: সংগৃহীত


 শুধু সরকারের অযৌক্তিক ও একগুঁয়েমি আচরণের কারণে দেশ চূড়ান্ত সংঘাতের দিকে যাচ্ছে বলে মনে করে বাম গণতান্ত্রিক জোট। এ অবস্থা থেকে দেশ বাঁচাতে সরকারকে পদত্যাগ করে নির্দলীয় তদারকি সরকারের রূপরেখা নিয়ে আলোচনা শুরুর আহ্বান জানিয়েছেন জোটের নেতারা।

বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমাবেশে বক্তারা এ আহ্বান জানান। বর্তমান সরকারের পদত্যাগ, নির্দলীয় তদারকি সরকারের অধীনে নির্বাচন দিয়ে দেশকে সংঘাতের হাত থেকে মুক্ত করার দাবিতে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়।


সমাবেশে বাম জোটের নেতারা অভিযোগ করে বলেন, সরকার স্বৈরাচারী কায়দায় একটি যেনতেন নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা কুক্ষিগত রেখে চলমান দুঃশাসনকে টিকিয়ে রাখার ষড়যন্ত্র করছে। দেশে আইনের শাসনের লেশমাত্র অবশিষ্ট নেই। মূল্যবৃদ্ধি, লুটপাট ও বাজার সিন্ডিকেট নৈরাজ্যের মহোৎসব চলছে দেশজুড়ে। এতে সাধারণ মানুষের জীবনে চূড়ান্ত নাভিশ্বাস। সরকারি দল ও পুলিশ একাকার হয়ে মানুষের স্বাভাবিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকারের ওপর হামলে পড়েছে। সভা–সমাবেশ ও ন্যূনতম কথা বলার সুযোগ পর্যন্ত এখানে হরণ করা হচ্ছে।

বাম জোটের নেতারা আরও বলেন, দেশে একটি সংঘাতময় পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে কেউই রক্ষা পাবে না। তাই পদত্যাগ করে একটি গণতান্ত্রিক নিরপেক্ষ নির্বাচনের পথকে সুগম করে দেশের গণতন্ত্রকে পুনরুদ্ধারের দাবি জানান নেতারা। তাঁরা বলেন, দেশের মানুষকে এই সংকট থেকে বের করার জন্য সরকারের পদত্যাগ ও নির্দলীয় নিরপেক্ষ তদারকি সরকারের অধীনে নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই।

সমাবেশ থেকে নতুন কর্মসূচি দিয়েছে বাম গণতান্ত্রিক জোট। ৩০ অক্টোবর বর্তমান সরকারের পদত্যাগ এবং নির্দলীয় তদারকি সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করবে।

বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়ক বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবিরের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশিদ, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল বাসদের (মার্ক্সবাদী) কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য জয়দ্বীপ ভট্টাচার্য, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শহিদুল ইসলাম, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক পার্টির নির্বাহী সভাপতি আবুল আলী প্রমুখ। সমাবেশ সঞ্চালনা করেন বাম গণতান্ত্রিক জোটের ঢাকা মহানগরের সমন্বয়ক তৈমুর খান।