খেলা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
খেলা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বৃহস্পতিবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৩

মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিমান বানিয়ে বিশাল ক্ষতির শিকার বোয়িং

মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিমান বানিয়ে বিশাল ক্ষতির শিকার বোয়িং

ছবি: এএফপি

 বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান কোম্পানি বোয়িং। মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিমান এয়ারফোর্স ওয়ানের বহরে নতুন জেট সরবরাহ করতে গিয়ে সেই ক্ষতির বোঝা আরও বাড়ছে বলে জানিয়েছে সিএনএন।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিমানবহরে ভবিষ্যতের জন্য দুটি ৭৪৭ জেট সজ্জিত করতে বোয়িং যে চুক্তি করেছে, তাতে কোম্পানির আরও ৪৮ কোটি ২০ লাখ ডলার ক্ষতি হয়েছে। এখন সব মিলিয়ে প্রতিটি জেটে তাদের ১০০ কোটি ডলারের বেশি ক্ষতি হচ্ছে। কোম্পানির সর্বশেষ আর্থিক প্রতিবেদনের সূত্রে এই তথ্য দিয়েছে সিএনএন।


অনেক দিন ধরেই ক্ষতির মুখে আছে বোয়িং। কোম্পানির প্রধান নির্বাহী ডেভ ক্যালহুন বলেছেন, ৩৯০ কোটি ডলারের বিনিময়ে জেট বিমান দুটি তৈরির চুক্তি করা তাদের কখনোই উচিত হয়নি। এরপর ব্যয় বেড়ে গেছে এবং বিমান সরবরাহের সময় পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। এসব বিমান তৈরিতে কোম্পানিটি ২০২২ সালে ক্ষতির শিকার হয়েছে ১৪৫ কোটি ডলার আর ২০২১ সালে ক্ষতির পরিমাণ ছিল ৩১ কোটি ৮০ লাখ ডলার।

বোয়িংয়ের সিইও ডেভ ক্যালহুন বলেন, এই চুক্তি করে বোয়িং হয়তো ভুল করেছে। শেষ যে ক্ষতিটা হলো তার কারণ হলো প্রকৌশলগত পরিবর্তন, শ্রমিক অসন্তোষ ও সরবরাহজনিত সমস্যা।

সাধারণত প্রতিরক্ষা চুক্তিতে ব্যয় বাড়লে তার ভার করদাতাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাপে পড়ে বোয়িং স্থির মূল্যে দুটি নতুন জেট তৈরিতে রাজি হয়। এ ধরনের চুক্তি ঝুঁকিপূর্ণ, কারণ যেকোনো সময় অপ্রত্যাশিত কারণে উপকরণ ব্যয় বেড়ে যেতে পারে। এসব চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও বোয়িং প্রতিশ্রুত উড়োজাহাজ সরবরাহে অঙ্গীকারবদ্ধ।

এয়ারফোর্স ওয়ান বিমান তৈরি ছাড়াও অন্য কারণেও বোয়িং ক্ষতির মুখে পড়েছে। দুটি বড় দুর্ঘটনার পর বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স জেটের উড়ান বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে ২০১৯ সালের পর প্রায় প্রতি প্রান্তিকেই বোয়িংয়ের ক্ষতি হয়েছে। এখন পর্যন্ত সব মিলিয়ে তাদের ২৫ দশমিক ৫ বিলিয়ন বা ২ হাজার ৫৫০ কোটি ডলার ক্ষতি হয়েছে।

বুধবার প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদনে বোয়িং ১১০ কোটি ডলার পরিচালন ক্ষতির কথা উল্লেখ করেছে, যদিও বিশ্লেষকেরা এতটা ক্ষতির পূর্বাভাস দেননি। তবে কোম্পানির রাজস্বও বেড়েছে প্রত্যাশাতীত—রাজস্ব ১৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১৮ দশমিক ১ বিলিয়ন বা ১ হাজার ৮১০ কোটি ডলারে উন্নীত হয়েছে। সেই সঙ্গে উৎপাদন বৃদ্ধির পরিকল্পনাও সমন্বয় করেছে বোয়িং। বছরের শেষ নাগাদ তারা প্রতি মাসে পাঁচটি ৭৮৭ জেট ও ৩৮টি ৭৩৭ ম্যাক্স উৎপাদন করতে চায়।

বিপুল ক্ষতি সত্ত্বেও কোম্পানির নগদ অর্থপ্রবাহ ইতিবাচক থাকবে বলেই মনে করছে বোয়িং। এতে আজ প্রাক্‌–বাজার লেনদেনে বোয়িংয়ের শেয়ারের দাম ৩ শতাংশ বেড়েছে।

মহাখালীর খাজা টাওয়ারে আগুন: আরেক প্রকৌশলীর মৃত্যু

মহাখালীর খাজা টাওয়ারে আগুন: আরেক প্রকৌশলীর মৃত্যু

আটকে পড়া এক নারীকে উদ্ধারের চেষ্টা করছেন ফায়ার সার্ভিসের এক সদস্য।
ছবি: শুভ্র কান্তি দাশ

রাজধানীর মহাখালীর বহুতল ভবন খাজা টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের নিয়ে এ ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে তিনজন হয়েছে।  
এই দুজন হলেন, মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম (৬৩) ও আকলিমা রহমান (৩১)।

রফিকুল পেশায় প্রকৌশলী। তিনি সাইফ পাওয়ারটেক নামের একটি প্রতিষ্ঠানের প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর ছিলেন। এই প্রতিষ্ঠানের কার্যালয় ছিল খাজা টাওয়ারের ১৩তলায়। আর আকলিমা ভবনটির নবম তলায় একটি কল সেন্টারে কাজ করতেন।

রফিকুলকে ভবন থেকে উদ্ধার করে রাত সোয়া ১২টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। আর আকলিমাকে ঢাকা মেডিকেলে আনা হয় রাত সোয়া ১টার দিকে। তাঁদের দুজনের লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে রাখা হয়েছে বলে মেডিকেল পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক বাচ্চু মিয়া জানিয়েছেন।

ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন চারপাশ, তার মধ্যে একজনকে উদ্ধার করে নিয়ে আসা হচ্ছে।
ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন চারপাশ, তার মধ্যে একজনকে উদ্ধার করে নিয়ে আসা হচ্ছে।
ছবি: শুভ্র কান্তি দাশ

এর আগে সন্ধ্যায় এ ঘটনায় হাসনা হেনা (২৭) নামের এক নারীর মৃত্যু হয়। হাসনা হেনা ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান রেস অনলাইন লিমিটেডের সেলস ইনচার্জ ছিলেন।

ইন্টারনেটের তার বেয়ে ভবন থেকে নামতে গিয়ে তিনি নিচে পড়ে মারা গেছেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। তাঁকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে সন্ধ্যা ৬টার দিকে মহাখালীর ঢাকা মেট্রোপলিটন হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসেকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।  

বুধবার বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে মহাখালীর আমতলী এলাকার ১৪ তলা ওই ভবনে আগুনের সূত্রপাত হয়। ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, আগুনের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা গিয়ে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করেন। উদ্ধারকাজে যোগ দেন সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, পুলিশ, র‌্যাব, আনসারসহ স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সদস্যরা।

ভবনের আগুন নিয়ন্ত্রণে সেখানে পানি ফেলা হচ্ছে অনবরত।
ভবনের আগুন নিয়ন্ত্রণে সেখানে পানি ফেলা হচ্ছে অনবরত।
ছবি: শুভ্র কান্তি দাশ

রাত ১২টার দিকে ঘটনাস্থলে সংবাদ সম্মেলনে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাইন উদ্দিন বলেন, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা গেলেও পুরোপুরি নেভাতে আরও সময় লাগবে। তিনি আরও বলেন, ভবন থেকে ৩ নারীসহ ১০ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, আগুনের সূত্রপাত কোন তলা থেকে, সেটি এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আগুন লাগার পর ভবনের বিভিন্ন তলা থেকে নানাভাবে লোকজন নামার চেষ্টা করেন। ওই ভবনের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কেউ কেউ পাশের ভবনের ছাদ দিয়ে, কেউবা ইন্টারনেটের তার বেয়ে নিচে নামেন।

সন্ধ্যা পৌনে সাতটার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, খাজা টাওয়ারের সামনের দিক থেকে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দুটি যন্ত্র দিয়ে পানি ছিটাচ্ছেন ও ভেতরে আটকে থাকা ব্যক্তিদের উদ্ধারে কাজ করছেন। এ সময় ভবনটির ১১, ১২ ও ১৩ তলায় আগুন ও ধোঁয়া দেখা যায়। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ১০ তলা থেকে ওপরের দিকে ১৪ তলা পর্যন্ত ভবনের কাচের দেয়াল ভেঙে আগুন নেভানোর কাজ করেন।

আগুন লাগার সময় খাজা টাওয়ারের ১২ তলায় ছিলেন সালমান হোসেন। তিনি সাইফ পাওয়ারটেকের সহকারী ব্যবস্থাপক। তিনি জানান, বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে আগুন লাগার বিপৎসংকেত (ফায়ার অ্যালার্ম) শুনে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামছিলেন তিনি। কিন্তু নিচের দিক থেকে আসা ধোঁয়ার কারণে আর নামতে পারেননি তিনি। পরে আবার ১২ তলায় উঠে যান। সেখান থেকে ভবনের পেছনের দিকে থাকা অন্য আরেকটি সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামেন তিনি।

সালমান হোসেনের ভাষ্য, ‘সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামার সময় দেখি, পঞ্চম তলায় (লিফটের-৪) দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে। ওই আগুনই ভবনে ছড়িয়েছে।’
ঢাকা মেডিকেল কলেজ সূত্র জানায়, মহাখালীর ঘটনায় শ্বাসকষ্ট নিয়ে চারজন শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি হয়েছেন।

 

সরকারের একগুঁয়েমির কারণে চূড়ান্ত সংঘাতের দিকে যাচ্ছে দেশ: বাম গণতান্ত্রিক জোট

সরকারের একগুঁয়েমির কারণে চূড়ান্ত সংঘাতের দিকে যাচ্ছে দেশ: বাম গণতান্ত্রিক জোট

জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাম গণতান্ত্রিক জোট সমাবেশ করে
ছবি: সংগৃহীত


 শুধু সরকারের অযৌক্তিক ও একগুঁয়েমি আচরণের কারণে দেশ চূড়ান্ত সংঘাতের দিকে যাচ্ছে বলে মনে করে বাম গণতান্ত্রিক জোট। এ অবস্থা থেকে দেশ বাঁচাতে সরকারকে পদত্যাগ করে নির্দলীয় তদারকি সরকারের রূপরেখা নিয়ে আলোচনা শুরুর আহ্বান জানিয়েছেন জোটের নেতারা।

বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমাবেশে বক্তারা এ আহ্বান জানান। বর্তমান সরকারের পদত্যাগ, নির্দলীয় তদারকি সরকারের অধীনে নির্বাচন দিয়ে দেশকে সংঘাতের হাত থেকে মুক্ত করার দাবিতে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়।


সমাবেশে বাম জোটের নেতারা অভিযোগ করে বলেন, সরকার স্বৈরাচারী কায়দায় একটি যেনতেন নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা কুক্ষিগত রেখে চলমান দুঃশাসনকে টিকিয়ে রাখার ষড়যন্ত্র করছে। দেশে আইনের শাসনের লেশমাত্র অবশিষ্ট নেই। মূল্যবৃদ্ধি, লুটপাট ও বাজার সিন্ডিকেট নৈরাজ্যের মহোৎসব চলছে দেশজুড়ে। এতে সাধারণ মানুষের জীবনে চূড়ান্ত নাভিশ্বাস। সরকারি দল ও পুলিশ একাকার হয়ে মানুষের স্বাভাবিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকারের ওপর হামলে পড়েছে। সভা–সমাবেশ ও ন্যূনতম কথা বলার সুযোগ পর্যন্ত এখানে হরণ করা হচ্ছে।

বাম জোটের নেতারা আরও বলেন, দেশে একটি সংঘাতময় পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে কেউই রক্ষা পাবে না। তাই পদত্যাগ করে একটি গণতান্ত্রিক নিরপেক্ষ নির্বাচনের পথকে সুগম করে দেশের গণতন্ত্রকে পুনরুদ্ধারের দাবি জানান নেতারা। তাঁরা বলেন, দেশের মানুষকে এই সংকট থেকে বের করার জন্য সরকারের পদত্যাগ ও নির্দলীয় নিরপেক্ষ তদারকি সরকারের অধীনে নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই।

সমাবেশ থেকে নতুন কর্মসূচি দিয়েছে বাম গণতান্ত্রিক জোট। ৩০ অক্টোবর বর্তমান সরকারের পদত্যাগ এবং নির্দলীয় তদারকি সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করবে।

বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়ক বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবিরের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশিদ, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল বাসদের (মার্ক্সবাদী) কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য জয়দ্বীপ ভট্টাচার্য, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শহিদুল ইসলাম, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক পার্টির নির্বাহী সভাপতি আবুল আলী প্রমুখ। সমাবেশ সঞ্চালনা করেন বাম গণতান্ত্রিক জোটের ঢাকা মহানগরের সমন্বয়ক তৈমুর খান।