দুআ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
দুআ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বৃহস্পতিবার, ২ নভেম্বর, ২০২৩

বিবাহিত জীবনে নবীজির শেখানো ৩ দোয়া

বিবাহিত জীবনে নবীজির শেখানো ৩ দোয়া

বিয়েকে রাসুল সা. দীনের অর্ধেক বলে ঘোষণা দিয়েছেন। এ বিয়ে জীবনের অনুষঙ্গ বিষয়ও। রাসুলুল্লাহ সা. বলেন, ‘যে বিয়ে করল, সে তার অর্ধেক দীন-ঈমান পূর্ণ করল। সে যেন বাকি অর্ধেকের বিষয়ে আল্লাহকে ভয় করে।’ (তাবরানি)

বিবাহিত জীবনে নবীজির শেখানো কিছু দোয়া রয়েছে, যেগুলোর মাধ্যমে বিবাহিত জীবন সুখময় হয়ে ওঠে। প্রতীকী ছবি

মুফতি আবদুল্লাহ তামিম দাম্পত্যজীবন মানবজীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এর সূচনাপর্ব হলো বিয়ে। বিয়ে ব্যক্তিগত জীবনে পারিবারিক ও সামাজিক ইবাদত। কোরআনুল কারিমে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরা বিবাহযোগ্যদের বিবাহ সম্পন্ন কর, তারা অভাবগ্রস্ত হলে আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদের সচ্ছলতা দান করবেন, আল্লাহ তো প্রাচুর্যময়, সর্বজ্ঞানী।’ (সুরা: নুর ৩২)।

 

রাসুল সা. সামর্থ্যবানদের বিয়ের প্রতি বিশেষভাবে উৎসাহ-অনুপ্রেরণা দিয়েছেন। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন নবী করিম সা. ইরশাদ করেছেন, ‘হে যুবসমাজ! তোমাদের মধ্যে যারা বিয়ের সামর্থ্য রাখে তাদের বিয়ে করা কর্তব্য। কেননা, বিয়ে দৃষ্টির নিয়ন্ত্রণকারী, যৌনাঙ্গের পবিত্রতা রক্ষাকারী। আর যার সামর্থ্য নেই সে যেন রোজা রাখে, কেননা রোজা তার ঢালস্বরূপ।’ (বুখারি ও মুসলিম)


সহবাসের দোয়া

 

বিবাহিত জীবনে নবীজির শেখানো কিছু দোয়া রয়েছে, যেগুলোর মাধ্যমে বিবাহিত জীবন সুখময় হয়ে ওঠে। শয়তানের কু-দৃষ্টি থেকে আল্লাহ তাআলা হেফাজত করেন। স্বামী-স্ত্রী সহবাস করতে চাইলে রাসুল সা. শেখানো এ দোয়া পড়বে। এতে শয়তান তাদের দিকে নজর দিতে পারবে না।
 

بِسْمِ اللّهِ اللّهُمَّ جَنِّبْنَا الشَّيْطَانَ وَ جَنِّبِ الشَّيْطَانَ مَا رَزَقْتَنَا উচ্চারণ: ‘বিসমিল্লাহি আল্লাহুম্মা জান্নিবনাশ শায়ত্বানা ওয়া জান্নিবিশ শায়ত্বানা মা রাযাক্বতানা।’ অর্থ: ‘আল্লাহর নামে শুরু করছি, হে আল্লাহ! আমাদেরকে তুমি শয়তান থেকে দূরে রাখ। আমাদেরকে তুমি যা দান করবে (মিলনের ফলে যে সন্তান দান করবে) তা থেকে শয়তানকে দূরে রাখ।’

 

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, এ দোয়া পাঠের পর যদি তাদের দুজনের মাঝে কিছু ফল দেয়া হয় অথবা সন্তান হয়, তাকে শয়তান কখনও ক্ষতি করতে পারবে না। (বুখারি ৪৭৮৭)


বিয়ের রাতের আমল

 

হক্কানি উলামায়ে কেরাম বিয়ের রাতে কিছু আমলের কথা বলেন। স্বামী-স্ত্রী একত্রে দুই রাকাত নামাজ আদায় করাকে তারা মুস্তাহাব হিসেবে গণ্য করেছেন, ইবনে আবি শাইবা শাকিক থেকে বর্ণনা করেন; তিনি বলেন, আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রা.-এর কাছে এক লোক এসে বলল, আমি এক যুবতি মেয়েকে বিয়ে করেছি। আমি আশঙ্কা করছি সে আমাকে অপছন্দ করবে।  বর্ণনাকারী বলেন, হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ বললেন, মিল-মহব্বত আল্লাহর পক্ষ থেকে আসে। দূরত্ব ও ঘৃণা শয়তানের পক্ষ থেকে আসে। আল্লাহ যা হালাল করেছেন শয়তান সেটাকে তোমাদের কাছে অপছন্দনীয় করে তুলতে চায়। যখন সে তোমার কাছে আসবে তখন তাকে তোমার পেছনে দুই রাকাত নামাজ পড়ার নির্দেশ দেবে। (মুসান্নাফ ইবনু আবি শাইবা ১৭১৫৬)


বাসর রাতের দোয়াসমূহ

 

স্ত্রীর মাথায় হাত রেখে দোয়া করা। হজরত আমর বিন শুয়াইব থেকে তিনি তার পিতা থেকে তিনি তার দাদা থেকে বর্ণনা করেন। নবী করিম সা. বলেন, তোমাদের কেউ যখন কোনো নারীকে বিয়ে করে তখন সে যেন স্ত্রীর মাথার অগ্রভাগ ধরে বাসর রাতে এ দোয়া পড়ে।

 

اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ خَيْرَهَا وَخَيْرَ مَا جَبَلْتَهَا عَلَيْهِ ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّهَا وَمِنْ شَرِّ مَا جَبَلْتَهَا عَلَيْهِ উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা মিন খাইরিহা ওয়া খাইরিমা জাবালতাহা আলাইহি, ওয়া আউজুবিকা মিন সাররিহা ওয়া সাররিমা জাবালতাহা আলাইহি। অর্থ: হে আল্লাহ! আমি তার কল্যাণটুকু ও যে কল্যাণের ওপর তাকে সৃষ্টি করেছেন, অভ্যস্ত করেছেন সেটা প্রার্থনা করি। আর তার অনিষ্ট থেকে ও যে অনিষ্টের ওপর তাকে সৃষ্টি করেছেন, অভ্যস্ত করেছেন তা থেকে আশ্রয় চাই)। (সুনানে আবু দাউদ ২১৬০)

 

 

নবদম্পতির জন্য দোয়া

 

নতুন বিয়ে হলে তার জন্য সবচেয়ে বড় উপহার হবে নবীজির শেখানো দোয়া পাঠ করে দোয়া করা। হজরত আবু হুরায়রা রা. বলেন, ‘রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিবাহিত ব্যক্তিকে অভিনন্দন জানিয়ে বলতেন:  بَارَكَ اللهُ لَكَ وَ بَارَكَ عَلَيْكَ وَ جَمَعَ بَيْنَكُمَا فِيْ خَيْرٍ উচ্চারণ: ‘বারাকাল্লাহু লাকা, ওয়া বারাকা আলাইকা, ওয়া জামাআ বাইনা কুমা ফি খাইরিন’ (তিরমিজি) অর্থ: আল্লাহ তোমাকে বরকত দান করুন, তোমাদের উভয়ের প্রতি বরকত নাজিল করুন। তোমাদের কল্যাণের সঙ্গে একত্রে রাখুন।’


যে বিয়ে বরকতময়

 

সুন্নত তরিকায় বিবাহ সম্পাদন করা হলে সে বিয়ে বরকতময় হয়। রাসুলুল্লাহ সা. বলেন, ‘নিশ্চয় সে বিয়ে বেশি বরকতপূর্ণ হয়, যে বিয়েতে খরচ কম হয়। (মুসনাদে আহমাদ ও মুস্তাদরাকে হাকিম)। এ ছাড়া বিয়ের সংশ্লিষ্ট আরও কিছু সুন্নত রয়েছে। বিবাহ সাদাসিধে ও অনাড়ম্বর হওয়া, অপচয়, অপব্যয় ও বিজাতীয় অপসংস্কৃতিমুক্ত হওয়া, যৌতুকের শর্ত না থাকা। সামর্থ্যের বেশি দেনমোহর ধার্য বা শর্ত না করা। (তাবারানি আওসাত ৩৬১২, আবু দাউদ ২১০৬)
বৃষ্টি ও বজ্রপাতের সময় যে দোয়া করবেন

বৃষ্টি ও বজ্রপাতের সময় যে দোয়া করবেন

 বৃষ্টি মহান আল্লাহর মহান দান। অগণন নিয়ামতের একটি। বৃষ্টিহীন মানুষেরাই বৃষ্টির কদর বুঝে। নবী করিম সা. বৃষ্টির পানি গায়ে লাগাতেন। আনন্দচিত্তে বৃষ্টির দিকে অপলক তাকিয়ে থাকতেন। আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া জ্ঞাপন করতেন। তিনি তার উম্মতদেরকেও বৃষ্টির পানি গায়ে লাগানোর জন্য বলেছেন।

বৃষ্টি এলে নবী করিম সা. বৃষ্টির পানি গায়ে লাগাতেন। দোয়া করতেন।

মুফতি আবদুল্লাহ তামিম

একবার নবী করিম সা. বৃষ্টিতে বের হলেন। শরীরে বৃষ্টির পানি লাগালেন। নবীজিকে জিজ্ঞাসা করা হলো, কেন তিনি এমনটি করেছেন?  তিনি বললেন, ‘বৃষ্টি আল্লাহ তা’আলার পক্ষ থেকে বরকত হিসেবে অবতীর্ণ হয়। তবে বৃষ্টির পানি শরীরে লাগানোর জন্য বৃষ্টির মধ্যে নেমে যাওয়ার দরকার নেই। যদি ঠাণ্ডা লাগার ভয় থাকে; অন্তত দুই-এক ফোঁটা পানি শরীরে লাগালেও সুন্নাহর সাওয়াব পাওয়া যাবে।

 

বর্ষাকালে যখনই বৃষ্টি হবে আমরা যেন নবী করিম সা এর সুন্নত থেকে বঞ্চিত না হই। অন্তত দুই-এক ফোঁটা পানি হাতে নিয়ে শরীরে লাগানোর চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ!
 

বৃষ্টির দোয়া

 

الْحَمد لله رب الْعَالمين الرَّحْمَن الرَّحِيم مَالك يَوْم الدّين لَا إِلَه إِلَّا الله يفعل مَا يُرِيد اللَّهُمَّ أَنْت الله لَا إِلَه إِلَّا أَنْت الْغَنِيّ وَنحن الْفُقَرَاء أنزل علينا الْغَيْث وَاجعَل مَا أنزلت لنا قُوَّة وبلاغا إِلَى حين

 

উচ্চারণ: আলহামদুলিল্লাহি রব্বিল আলামিন, আর রহমানির রহিম, মা-লিকি ইয়াওমিদ্দিন, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ইয়াফ আলু মা-ইউরিদ, আল্লা-হুম্মা আনতাল্লা-হু লা-ইলাহা ইল্লা-আনতাল গনিয়্যু ওয়া নাহ নুল ফুকারা, আনযিল আলাইনাল গয়সা ওয়াজআল মা-আনযালতা লানা-ক্যুওয়াতান ওয়া বালাগান ইলা-হিন।
 
অর্থ: সকল প্রশংসা আল্লাহর। তিনি সারা বিশ্বের পালনকর্তা, মেহেরবান ও ক্ষমাকারী। প্রতিদান দিবসের মালিক। আল্লাহ ছাড়া সত্য কোনো মাবুদ নেই। তিনি যা চান তা-ই করেন। হে আল্লাহ, তুমি ছাড়া আর কোনো উপাস্য নেই। তুমি অমুখাপেক্ষী। আর আমরা কাঙাল—তোমার মুখাপেক্ষী। আমাদের ওপর তুমি বৃষ্টি বর্ষণ করো। আর যে জিনিস (বৃষ্টি) তুমি অবতীর্ণ করবে তা আমাদের শক্তির উপায় ও দীর্ঘকালের পাথেয় করো।
 
এ দোয়া পাঠের অনেক ফজিলত রয়েছে। আম্মাজান হযরত আয়েশা রা. বলেন, লোকজন রসুলুল্লাহ সা.-এর কাছে অনাবৃষ্টির কষ্টের কথা নিবেদন করলে রসুলুল্লাহ সা. ঈদগাহে সাহাবায়ে কেরামকে নিয়ে এই দোয়া করেন। আল্লাহর হুকুমে বৃষ্টি বর্ষণ হতে শুরু করে। আর বৃষ্টি থেকে পরিত্রাণ পেতে মানুষের ছোটাছুটি দেখে নবীজি সা. হেসে ফেলেন। (আবু দাউদ ১১৭৩)

বৃষ্টিতে দোয়া কবুল হয়
 

اللهم شيبان نافع উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা সায়্যিবান নাফি’আহ। অর্থ: হে আল্লাহ! আপনি মুষলধারায় যে বৃষ্টি দিচ্ছেন, তা যেন আমাদের জন্য উপকারি হয়। (বুখারি ১০৩২; নাসায়ি ১৫২৩)

 
যখনই বৃষ্টি শুরু হয় তখনই দোয়া করা উচিত। কারণ বৃষ্টি চলার সময়ে দোয়া কবুল হয়। এই সময় দোয়া করাও সুন্নাত। হযরত সাহল বিন সাদ রা. থেকে বর্ণিত, রসুল সা. বলেছেন, দুই সময়ের দোয়া কখনও ফেরত দেয়া হয় না। (আবু দাউদ ২৫৪০)
 

বজ্রপাত থেকে বাঁচার দোয়া

 

বৃষ্টিতে অনেক সময় বজ্রপাত হয়। রসুল সা. বজ্রপাত থেকে বাঁচার জন্য দোয়া শিখিয়েছেন। এ দোয়া পাঠ করা হলে ইনশাল্লাহ বজ্রপাত থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রা. বলেন, রসুলুল্লাহ সা. যখন বজ্রের আওয়াজ শুনতেন তখন এ দোয়া পড়তেন—
 

اللَّهُمَّ لاَ تَقْتُلْنَا بِغَضَبِكَ وَلاَ تُهْلِكْنَا بِعَذَابِكَ وَعَافِنَا قَبْلَ ذَلِكَ

 

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা লা-তাক্বতুলনা বিগাজাবিকা, ওয়া লা-তুহলিকনা বিআজা-বিকা; ওয়া আ-ফিনা-ক্বাবলা জা-লিকা।’ অর্থ: হে আল্লাহ, আপনি আমাকে আপনার গজব দিয়ে হত্যা করে দেবেন না এবং আপনার আজাব দিয়ে ধ্বংস করে দেবেন না। এসবের আগেই আপনি আমাকে পরিত্রাণ দিন।’ (তিরমিজি ৩৪৫০)
 
রসুল সা. বজ্রের আওয়াজ শুনে এ দোয়াও পড়তেন, ‘সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি’, তিনি বলেন, যে এ দোয়া পড়বে সে বজ্রে আঘাতপ্রাপ্ত হবে না। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা ২৯২১৩)
টয়লেটে যাওয়ার দোয়া

টয়লেটে যাওয়ার দোয়া

ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ ধর্ম। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন রাসুল সা.-কে শিক্ষক হিসেবে পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন। তিনি আমাদের শিখিয়েছেন জীবন ধারণের সবকিছু। শিখিয়েছেন দীন-ধর্মের সবকিছু। জীবনের ছোট থেকে ছোট বিষয়েও তিনি শিক্ষা দিয়েছেন।

জীবনের ছোট থেকে ছোট বিষয়েও নবী কারিম সা. আমাদের শিক্ষা দিয়েছেন।

মুফতি আবদুল্লাহ তামিম

একবার নবী করিম সা. বৃষ্টিতে বের হলেন। শরীরে বৃষ্টির পানি লাগালেন। নবীজিকে জিজ্ঞাসা করা হলো, কেন তিনি এমনটি করেছেন?  তিনি বললেন, ‘বৃষ্টি আল্লাহ তা’আলার পক্ষ থেকে বরকত হিসেবে অবতীর্ণ হয়। তবে বৃষ্টির পানি শরীরে লাগানোর জন্য বৃষ্টির মধ্যে নেমে যাওয়ার দরকার নেই। যদি ঠাণ্ডা লাগার ভয় থাকে; অন্তত দুই-এক ফোঁটা পানি শরীরে লাগালেও সুন্নাহর সাওয়াব পাওয়া যাবে।

বর্ষাকালে যখনই বৃষ্টি হবে আমরা যেন নবী করিম সা এর সুন্নত থেকে বঞ্চিত না হই। অন্তত দুই-এক ফোঁটা পানি হাতে নিয়ে শরীরে লাগানোর চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ!
 

বৃষ্টির দোয়া

 

الْحَمد لله رب الْعَالمين الرَّحْمَن الرَّحِيم مَالك يَوْم الدّين لَا إِلَه إِلَّا الله يفعل مَا يُرِيد اللَّهُمَّ أَنْت الله لَا إِلَه إِلَّا أَنْت الْغَنِيّ وَنحن الْفُقَرَاء أنزل علينا الْغَيْث وَاجعَل مَا أنزلت لنا قُوَّة وبلاغا إِلَى حين

 

উচ্চারণ: আলহামদুলিল্লাহি রব্বিল আলামিন, আর রহমানির রহিম, মা-লিকি ইয়াওমিদ্দিন, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ইয়াফ আলু মা-ইউরিদ, আল্লা-হুম্মা আনতাল্লা-হু লা-ইলাহা ইল্লা-আনতাল গনিয়্যু ওয়া নাহ নুল ফুকারা, আনযিল আলাইনাল গয়সা ওয়াজআল মা-আনযালতা লানা-ক্যুওয়াতান ওয়া বালাগান ইলা-হিন।
 
অর্থ: সকল প্রশংসা আল্লাহর। তিনি সারা বিশ্বের পালনকর্তা, মেহেরবান ও ক্ষমাকারী। প্রতিদান দিবসের মালিক। আল্লাহ ছাড়া সত্য কোনো মাবুদ নেই। তিনি যা চান তা-ই করেন। হে আল্লাহ, তুমি ছাড়া আর কোনো উপাস্য নেই। তুমি অমুখাপেক্ষী। আর আমরা কাঙাল—তোমার মুখাপেক্ষী। আমাদের ওপর তুমি বৃষ্টি বর্ষণ করো। আর যে জিনিস (বৃষ্টি) তুমি অবতীর্ণ করবে তা আমাদের শক্তির উপায় ও দীর্ঘকালের পাথেয় করো।
 
এ দোয়া পাঠের অনেক ফজিলত রয়েছে। আম্মাজান হযরত আয়েশা রা. বলেন, লোকজন রসুলুল্লাহ সা.-এর কাছে অনাবৃষ্টির কষ্টের কথা নিবেদন করলে রসুলুল্লাহ সা. ঈদগাহে সাহাবায়ে কেরামকে নিয়ে এই দোয়া করেন। আল্লাহর হুকুমে বৃষ্টি বর্ষণ হতে শুরু করে। আর বৃষ্টি থেকে পরিত্রাণ পেতে মানুষের ছোটাছুটি দেখে নবীজি সা. হেসে ফেলেন। (আবু দাউদ ১১৭৩)


বৃষ্টিতে দোয়া কবুল হয়
 

اللهم شيبان نافع উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা সায়্যিবান নাফি’আহ। অর্থ: হে আল্লাহ! আপনি মুষলধারায় যে বৃষ্টি দিচ্ছেন, তা যেন আমাদের জন্য উপকারি হয়। (বুখারি ১০৩২; নাসায়ি ১৫২৩)

 
যখনই বৃষ্টি শুরু হয় তখনই দোয়া করা উচিত। কারণ বৃষ্টি চলার সময়ে দোয়া কবুল হয়। এই সময় দোয়া করাও সুন্নাত। হযরত সাহল বিন সাদ রা. থেকে বর্ণিত, রসুল সা. বলেছেন, দুই সময়ের দোয়া কখনও ফেরত দেয়া হয় না। (আবু দাউদ ২৫৪০)
 

বজ্রপাত থেকে বাঁচার দোয়া

 

বৃষ্টিতে অনেক সময় বজ্রপাত হয়। রসুল সা. বজ্রপাত থেকে বাঁচার জন্য দোয়া শিখিয়েছেন। এ দোয়া পাঠ করা হলে ইনশাল্লাহ বজ্রপাত থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রা. বলেন, রসুলুল্লাহ সা. যখন বজ্রের আওয়াজ শুনতেন তখন এ দোয়া পড়তেন—
 

اللَّهُمَّ لاَ تَقْتُلْنَا بِغَضَبِكَ وَلاَ تُهْلِكْنَا بِعَذَابِكَ وَعَافِنَا قَبْلَ ذَلِكَ

 

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা লা-তাক্বতুলনা বিগাজাবিকা, ওয়া লা-তুহলিকনা বিআজা-বিকা; ওয়া আ-ফিনা-ক্বাবলা জা-লিকা।’ অর্থ: হে আল্লাহ, আপনি আমাকে আপনার গজব দিয়ে হত্যা করে দেবেন না এবং আপনার আজাব দিয়ে ধ্বংস করে দেবেন না। এসবের আগেই আপনি আমাকে পরিত্রাণ দিন।’ (তিরমিজি ৩৪৫০)
 
রসুল সা. বজ্রের আওয়াজ শুনে এ দোয়াও পড়তেন, ‘সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি’, তিনি বলেন, যে এ দোয়া পড়বে সে বজ্রে আঘাতপ্রাপ্ত হবে না। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা ২৯২১৩)
ইসমে আজম কী?

ইসমে আজম কী?

‘ইসমে আজম’ আরবি শব্দ। ইসম অর্থ নাম আর আজম অর্থ শ্রেষ্ঠ, মহান। আল্লাহর অগণিত গুণবাচক নাম রয়েছে। এ নামগুলোর মধ্যে যেগুলোতে সবচেয়ে বেশি আল্লাহর বড়ত্ব ও মাহাত্ম্য ফুটে ওঠে সেগুলোকে ইসমে আজম বলা হয় বলে।
আল্লাহর বড়ত্ব ও মাহাত্ম্য সবচেয়ে বেশি ফুটে ওঠে যে নামগুলোতে সেগুলোকে ইসমে আজম বলা হয়।

মুফতি আবদুল্লাহ তামিম

ইসমে আজম
 

ইসমে আজম সম্পর্কে বিজ্ঞ আলেমদের থেকে প্রায় ৪০টি মত বর্ণিত হয়েছে, যার মধ্যে আল্লামা সুয়ুতি রহ. তার রচিত ‘আদ দুররুল মুনাজ্জাম ফিল ইসমিল আজম’ নামক গ্রন্থে ২০টি মত উল্লেখ করেছেন।

হযরত আসমা বিন ইয়াজিদ রা. সূত্রে বর্ণিত, রসুল সা. ইরশাদ করেন, ইসমে আজম এই দুটি আয়াতের মধ্যে নিহিত। 
প্রথমত, সুরা বাকারার ১৬৩ নম্বর আয়াত:
وَإِلَهُكُمْ إِلَهٌ وَاحِدٌ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الرَّحْمَنُ الرَّحِيمُ উচ্চারণ: ওয়া ইলাহুকুম ইলাহু ওয়াহিদ, লা ইলাহা ইল্লা হুয়ার রহমানুর রহিম। অর্থ: আর তোমাদের উপাস্য একমাত্র উপাস্য (আল্লাহ)। তিনি ব্যতীত আর কোন (সত্যিকার) উপাস্য নেই, তিনি পরম করুণাময়, অতিশয় দয়ালু।
 

দ্বিতীয়ত, সুরা আল ইমরানের ১ নম্বর আয়াত:
 اللّٰهُ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا هُوَ ۙ الۡحَیُّ الۡقَیُّوۡمُ (সুনানে আবি দাউদ ১৪৯৬) উচ্চারণ: আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লাহহুয়াল হাইয়ুল ক্বাইয়ুম। অর্থ: আল্লাহ তিনিই, যিনি ছাড়া কোন মাবুদ নেই। তিনি চিরঞ্জীব, (সমগ্র জগতের) নিয়ন্ত্রক।
 

কোনো কোনো সাহাবী থেকে বর্ণিত হয়েছে , الْحَيُّ এবং الْقَيُّومُ আল্লাহর ইসমে আজম। ইমাম রাজি রহ. ও আল্লামা নববী রহ. এ মতকেই গ্রহণ করেছেন। (ফাতাওয়া উসমানি ১/২৬৪)
 
হযরত আবদুল কাদের জিলানি রহ. বলেন, ‘ইসমুল আজম হলো ‘আল্লাহ’ শব্দ। তবে শর্ত হলো তা পূর্ণ একাগ্রতা ও এখলাসের সঙ্গে বলতে হবে। (মিরকাতুল মাফাতিহ, ১/৬)। এ ছাড়াও আরও অনেক মত পাওয়া যায়।  

ইসমে আজমের ফজিলত

হাদিসে ইসমে আজমের ফজিলতও বর্ণনা করা হয়েছে। হযরত আনাস রা. সূত্রে বর্ণিত, একবার রসুল সা. মসজিদে প্রবেশ করেছেন। এমতাবস্থায় এক লোক নামাজ শেষে এ দোয়া করছিলেন, اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ بِأَنِّي أَشْهَدُ أَنَّكَ أَنْتَ اللَّهُ لاَ إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ الأَحَدُ الصَّمَدُ الَّذِي لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ وَلَمْ يَكُنْ لَهُ كُفُوًا أَحَدٌ উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা বিআন্নি আশহাদু আন্নাকা আনতা আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা আনতাল আহাদুস সামাদুল্লাজি লাম ইয়ালিদ ওয়া লাম ইউলাদ ওয়া লাম ইকুল্লাহু কুফুওয়ান আহাদ।

অর্থ: ‘হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে প্রার্থনা করছি আর সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তুমিই একমাত্র আল্লাহ, তুমি ছাড়া অন্য কোনো মাবুদ নেই, তুমি একক সত্তা, স্বয়ংসম্পূর্ণ, যিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং তাকেও কেউ জন্ম দেয়নি, আর তার সমকক্ষ কেউ নেই।’
তখন রসুল সা. তাকে বললেন, ‘তুমি জানো, তুমি কি দিয়ে দোয়া করেছ? তুমি দোয়া করেছ ‘ইসমে আজম’ দিয়ে, যার মাধ্যমে দোয়া করলে আল্লাহ কবুল করেন। এর মাধ্যমে কিছু চাইলে আল্লাহ তা প্রদান করেন। (সুনানে তিরমিজি ৩৫৪৪)
 
কোনো কোনো সাহাবি থেকে বর্ণিত আছে, الْحَيُّ ও الْقَيُّومُ আল্লাহর ইসমে আজম। ইমাম রাজি রহ. ও আল্লামা নববী এ মতকেই গ্রহণ করেছেন। (ফাতাওয়া উসমানি ১/২৬৪)।
আল্লামা জাজারি রহ. বলেছেন, আমার মতে ইসমে আজম لا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ উচ্চারণ: লা ইলাহা ইল্লা হুয়াল হাইয়ুল ক্বাইয়ুম। অর্থ: আল্লাহ তিনিই, যিনি ছাড়া কোন মাবুদ নেই। তিনি চিরঞ্জীব, (সমগ্র জগতের) নিয়ন্ত্রক।

ইমাম মুহাম্মদ রহ. বলেন, আমি ইমাম আবু হানিফা রহ. থেকে শুনেছি, আল্লাহ তা’আলার ইসমে আজম হলো, اللَّه (আল্লাহ)। কেননা, এটি আল্লাহর সত্তাগত নাম। তাছাড়া কোরআন মজিদে এই নামটিই ২,৬৯৭ বার এসেছে। এত বেশি অন্য নাম আসেনি। (আত-তাকরির ওয়াত-তাহবির ১/৫)।

বুধবার, ১ নভেম্বর, ২০২৩

উপকারী চারটি দোয়া

উপকারী চারটি দোয়া

ছবিঃ ইমদাদুল হক মামুন


চলার পথে নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। অনেক সময় কিছুটা ভুল বা কিছুটা অসতর্কতার কারণে ঘটে অসংখ্য বিপদ। এসব অতর্কিত বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়া যায় এমন অনেক দোয়া বর্ণিত হয়েছে কুরআন ও হাদিসে। সহজে আমলযোগ্য ছোট চারটি দোয়া হলো- 


অনিষ্টতা থেকে হেফাজতের দোয়া :


হজরত উসমান (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘প্রত্যহ সকালে ও সন্ধ্যায় তিনবার করে এই (নিম্নে বর্ণিত) দোয়াটি পাঠ করলে কোনো কিছুই তার ক্ষতি করতে পারবে না।’ 


بِسْمِ اللَّهِ الَّذِى لاَ يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَىْءٌ فِى الأَرْضِ وَلاَ فِى السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ


উচ্চারণ : ‘বিসমিল্লাহিল্লাজি লা ইয়াদুররু মায়াসমিহি শাইয়ুন ফিল আরদি, ওয়ালা ফিস-সামায়ি ওয়া হুয়াস সামিউল আলীম।’


অর্থ : আল্লাহর নামে, যার নামের বরকতে আসমান ও জমিনের কোনো কিছুই কোনো ক্ষতি করতে পারে না, তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ। (তিরমিজি : ৩৩৮৮; আবু দাউদ : ৫০৯০)।


বিপদে পাঠ করার দোয়া :


হজরত উম্মে সালমা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি, মানুষের ওপর কোনো বিপদ এলে সে যদি এই (নিম্নে বর্ণিত) দোয়া পাঠ করে, আল্লাহ তায়ালা তাকে তার বিপদের প্রতিদান দেন এবং সে যা কিছু হারিয়েছে তার বদলে তার চেয়ে উত্তম কিছু দান করেন।’


إِنَّا لِلَّهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُونَ، اللَّهُمَّ أْجُرْنِي فِي مُصِيبَتِي وَأَخْلِفْ لِي خَيْرًا مِنْهَا


উচ্চারণ : ‘ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন, আল্লাহুম্মা আজিরনি ফি মুসিবাতি ওয়া আখলিফ-লি খাইরাম মিনহা।’ 


অর্থ : আমরা আল্লাহর জন্য এবং আমাদেরকে তাঁরই দিকে ফিরে যেতে হবে। হে আল্লাহ! বিপদে আমাকে সওয়াব দান করুন এবং যা হারিয়েছি তার বদলে তার চেয়ে ভালো কিছু দান করুন। (মুসলিম : ১৫২৫)।


ঋণমুক্তির দোয়া :


হজরত আলী (রা.) থেকে বর্ণিত, এক চুক্তিবদ্ধ দাস তাঁর কাছে এসে বলে, আমি আমার চুক্তির অর্থ পরিশোধে অপারগ হয়ে পড়েছি। আপনি আমাকে সাহায্য করুন। তিনি বলেন, আমি তোমাকে এমন একটি বাক্য শিখিয়ে দেব, যা আমাকে রাসুলুল্লাহ (সা.) শিখিয়েছিলেন। যদি তোমার ওপর পর্বত-পরিমাণ দেনাও থাকে তবে আল্লাহ তায়ালা তোমাকে তা পরিশোধের ব্যবস্থা করে দেবেন। তিনি বলেন, তুমি পাঠ করবে-


اللَّهُمَّ اكْفِنِي بِحَلاَلِكَ عَنْ حَرَامِكَ، وَأَغْنِنِي بِفَضْلِكِ عَمَّنْ سِوَاكَ


উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মাকফিনি বিহালালিকা আন হারামিকা, ওয়া আগনিনি বিফাদলিকা আম্মান সিওয়াক।’ 


অর্থ : হে আল্লাহ! তোমার হালাল দ্বারা আমাকে তোমার হারাম থেকে দূরে রাখো এবং তোমার দয়ায় তুমি ভিন্ন অপরের মুখাপেক্ষী হওয়া থেকে স্বনির্ভর করো। (তিরমিজি : ৩৫৬৩; মুসনাদে আহমাদ :১৩২১)।


রোগী দেখার দোয়া :


হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, 

'যে ব্যক্তি কোনো বিপদগ্রস্ত বা রোগী দেখে এই (নিম্নে বর্ণিত) দোয়া পাঠ করে, সে কখনো এমন বিপদ কিংবা ব্যাধিতে আক্রান্ত হয় না।’


الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي عَافَانِي مِمَّا ابْتَلاَكَ بِهِ وَفَضَّلَنِي عَلَى كَثِيرٍ مِمَّنْ خَلَقَ تَفْضِيلاً


উচ্চারণ : ‘আলহামদুলিল্লাহিল্লাজি আফিনি মিম্মাবতালাকা বিহি, ওয়া ফাদ্দিলনি আলা কাছিরিম-মিম্মান খালাকা তাফদিলা।’ 


অর্থ : সব প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তোমাকে যে ব্যাধিতে আক্রান্ত করেছেন তা থেকে আমাকে নিরাপদে রেখেছেন এবং তাঁর বহু সংখ্যক সৃষ্টির ওপর আমাকে মর্যাদা দান করেছেন। (আবু দাউদ : ৩১০৬)।


মহান আল্লাহ আমাদেরকে এই দোয়া গুলোকে স্মরণ করার মাধ্যমে আমাদের জীবনে বেশি বেশি তাঁর আনুগত্য করার তাওফিক এবং এই দেয়া গুলোকে উল্লেখিত বিষয় হতে মুক্তির উসিলা বানিয়ে দিন।

আমিন।

ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ সকাল-সন্ধ্যা দুআ পড়ুন

ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ সকাল-সন্ধ্যা দুআ পড়ুন

ছবিঃ ইমদাদুল হক মামুন


লেখকঃমাওলানা মুহাম্মাদ ইমরান হুসাইন

বিভিন্ন সময় ডেঙ্গুজ¦রের প্রকোপ দেখা দেয়। এবারও মহামারির রূপ ধারণ করেছে। সবার মাঝে বিরাজ করছে ভীতি ও আতঙ্ক। এহেন পরিস্থিতিতে আল্লাহর শরণাপন্ন হলে পেতে পারি স্বস্তিলাভ করতে পারি সে আতঙ্ক থেকে পরিত্রাণ। ইসলামে তো সব বিষয়েই আছে অনুপম ও বিকল্পহীন নির্দেশনা। এক্ষেত্রেও রয়েছে ইসলামের সুন্দর ও সুমহান শিক্ষা।

ডেঙ্গুজ¦র সাধারণত এডিস মশার ভাইরাস থেকে সৃষ্টি হয়। এ মশা দংশন করে আর এর ভাইরাস থেকে ডেঙ্গুজ¦র হয়। সাপবিচ্ছুএডিস মশা ও অন্যান্য বিষাক্ত কীট-পতঙ্গের বিষক্রিয়া থেকে মুক্ত থাকার জন্য আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে আল্লাহর আশ্রয় গ্রহণ করতে বলেছেনএকটি দুআ শিক্ষা দিয়েছেন। একীন ও বিশ্বাসের সাথে তা নিয়মিত পাঠ করলে কোনো বিষাক্ত প্রাণীর বিষ ক্ষতি করবে না। বিষাক্ত কীট-পতঙ্গ হয়তো দংশন করবেকিন্তু বিষক্রিয়া প্রকাশ পাবে না। দংশনের কারণে কোনো ক্ষতি হবে না।

বিচ্ছু কোনো ক্ষতি করবে না

আবু হুরায়রা রা. বলেন

أَنَّ رَجُلًا مِنْ أَسْلَمَ قَالَمَا نِمْتُ هَذِهِ اللَّيْلَةَ، فَقَالَ لَه رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَمِنْ أَيِّ شَيْءٍ؟ فَقَالَلَدَغَتْنِي عَقْرَب، فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَأَمَا إِنَّكَ لَوْ قُلْتَ حِينَ أَمْسَيْتَ أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ، لَمْ تَضُرَّكَ.

আসলাম গোত্রের এক লোক বললআজ রাতে আমি ঘুমাতে পারিনি।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেনকীসের কারণে?

সে বললআমাকে বিচ্ছু দংশন করেছিল।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনশোনোতুমি যদি সন্ধ্যায় নিম্নের দুআটি পড়তে তাহলে বিচ্ছুর দংশন তোমার ক্ষতি করতে পারত না। দুআটি হলÑ

أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ.

মুয়াত্তা মালেকহাদীস ১১সহীহ মুসলিমহাদীস ২৭০৯সুনানে আবু দাউদহাদীস ৩৮৯৮মুসনাদে আহমাদহাদীস ৮৮৮০

উল্লিখিত রেওয়ায়েতে সন্ধ্যায় দুআ পড়ার কথা এবং শুধু রাতের বেলা বিচ্ছুর ক্ষতি থেকে মুক্ত থাকার কথা বর্ণিত হয়েছে। অন্য রেওয়ায়েতে দিনের নিরাপত্তার কথাও এসেছে। আবু ইয়ালা রাহ. তার মুসনাদ গ্রন্থে যে রেওয়ায়েত বর্ণনা করেছেন এর শেষে আছে

فَمَنْ قَالَهَا حِينَ يُمْسِي وَحِينَ يُصْبِحُ لَمْ تَضُرَّهُ .

যে সন্ধ্যা ও সকালে দুআটি পড়বেবিচ্ছু তার ক্ষতি করতে পারবে না। মুসনাদে আবু ইয়ালাহাদীস ৬৬৮৮

আরেকটি রেওয়ায়েতে এভাবে বলা হয়েছে

مَنْ قَالَ حِينَ يُصْبِحُ وَحِينَ يُمْسِيأَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ، لَمْ يَضُرَّهُ شَيْءٌ (إسناده صالح)

যে ব্যক্তি সকাল ও সন্ধ্যায় এই দুআটি পাঠ করবেকোনো জিনিস তার ক্ষতি করতে পারবে না। 

মুজামে আওসাততবারানীহাদীস ৫২৩

রেওয়ায়েত দুটিতে বলা হয়েছেসকাল ও সন্ধ্যায় দুআটি পড়লে উপকার হবে। উদ্দেশ্য হল সকালে পড়লে সন্ধ্যা পর্যন্ত এবং সন্ধ্যায় পড়লে সকাল পর্যন্ত বিচ্ছুর অনিষ্ট থেকে নিরাপদ থাকবে। এই ব্যাখ্যা হাদীসটিরই এক রেওয়ায়েতে উল্লেখ হয়েছে। ইমাম আবু হানীফা রাহ. নিজ সনদে আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণনা করেছেননবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন

مَنْ قَالَ حِينَ يُصْبِحُأَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ، لَمْ يَضُرَّه عَقْرَب حَتَّى يُمْسِيَ، وَمَنْ قَالَ حِينَ يُمْسِي لَمْ يَضُرَّهُ حَتَّى يُصْبِحَ.

যে ব্যক্তি সকালে

أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ.

বলবেসন্ধ্যা পর্যন্ত বিচ্ছু তার ক্ষতি করতে পারবে না। আর যে সন্ধ্যায় বলবে সকাল পর্যন্ত বিচ্ছু তার ক্ষতি করতে পারবে না। Ñমুসনাদে আবু হানীফাআবু নুআইমপৃ. ২৫৭কিতাবুল আসারআবু হানীফারেওয়ায়েতে আবু ইউসুফহাদীস ২১৪নাতাইজুল আফকারইবনে হাজার ২/৩৬০মুসনাদে আবু হানীফাহাসকাফীহাদীস ৯

অতএব সকালে এই দুআ পড়লে সন্ধ্যা পর্যন্ত এবং সন্ধ্যায় পড়লে সকাল পর্যন্ত বিচ্ছুর ক্ষতি থেকে আল্লাহ হেফাযত করবেন।

এডিস মশাসাপ ইত্যাদি কীট-পতঙ্গের বিষক্রিয়া থেকেও হেফাযতে থাকবে

ওপরের রেওয়ায়েতগুলোতে যদিও শুধু বিচ্ছুর ক্ষতি থেকে বেঁচে থাকার কথা বর্ণিত হয়েছেতবে অন্য রেওয়ায়েতে বর্ণিত হয়েছে. দুআটি পড়লে সব ধরনের বিষক্রিয়া ও সকল বিষাক্ত প্রাণীর ক্ষতি থেকে রক্ষা পাবে। আবু হুরায়রা রা. বলেননবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনÑ

مَنْ قَالَ حِينَ يُمْسِي ثَلاَثَ مَرَّاتٍأَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ، لَمْ يَضُرَّه حُمَةٌ تِلْكَ اللَّيْلَةَ.

যে ব্যক্তি সন্ধ্যায় তিনবার উক্ত দুআটি পড়বে ঐ রাতে কোনো (বিষাক্ত প্রাণীর) বিষ তার ক্ষতি করবে না। জামে তিরমিযীহাদীস ৩৬০৪/১সুনানে ইবনে মাজাহহাদীস ৩৫১৮মুসনাদে আহমাদহাদীস ৭৮৯৮মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বাহাদীস ৩০৪১৮

এই রেওয়ায়েতে বলা হয়েছে

لَمْ يَضُرَّه حُمَةٌ تِلْكَ اللَّيْلَةَ.

অর্থাৎ যে ব্যক্তি দুআটি পড়বেকোনো حُمَةٌ (হুমাহ) তার ক্ষতি করবে না। হুমাহ হল বিষ। তদ্রƒপ এর অর্থ হলকীট-পতঙ্গের হুলযা দিয়ে সে দংশন করে। কারণ হুল দিয়েই তার বিষ বের হয়। তো এই রেওয়ায়েতে ব্যাপকভাবে বলা হয়েছেদুআটি পড়লে কোনো বিষ বা হুল ক্ষতি করবে না।

একটি বর্ণনায় আরো স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে

مَنْ قَالَ حِينَ يُمْسِي ثَلاثَ مَرَّاتٍ أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللهِ التَّامَّةِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ، لَمْ يَضُرَّهُ لَسْعَةٌ تِلْكَ اللَّيْلَةَ.

যে ব্যক্তি সন্ধ্যায় তিনবার দুআটি পাঠ করবে ঐ রাতে কোনো لَسْعَةٌ (লাস্আহ) তথা কোনো (বিষাক্ত প্রাণীর) দংশন তার ক্ষতি করবে না। Ñমুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বাহাদীস ৩০৪১৮

আগে উল্লিখিত একটি বর্ণনায়ও ব্যাপকভাবে বলা হয়েছেযারা এই দুআটি পড়বেকোনো কিছুর ছোবল তাদের ক্ষতি করবে না। সেই বর্ণনায় এসেছেরাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনÑ

مَنْ قَالَ حِينَ يُصْبِحُ وَحِينَ يُمْسِيأَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ، لَمْ يَضُرَّهُ شَيْءٌ.

যে ব্যক্তি সকাল ও সন্ধ্যায় দুআটি পাঠ করবে কোনো জিনিস তার ক্ষতি করতে পারবে না। Ñমুজামে আওসাততবারানীহাদীস ৫২৩

উক্ত দুআর উপকারিতা যে ব্যাপকশুধু বিচ্ছুর সাথে নির্দিষ্ট নয়বিষয়টি আরো জোরালোভাবে প্রমাণ করে হাদীসটির বর্ণনাকারী সুহাইল ইবনে আবু সালেহের বক্তব্যÑ

فَقَالَتْهَا امْرَأَةٌ مِنْ أَهْلِي، فَلَدَغَتْهَا حَيَّةٌ، فَلَمْ تَضُرَّهَا.

আমার পরিবারের এক নারী দুআটি পড়েছে। অতঃপর তাকে একটি সাপ দংশন করেছেকিন্তু তার কোনো ক্ষতি হয়নি। Ñজামে মামার ইবনে রাশেদহাদীস ১৯৮৩৪মুসান্নাফে আবদুর রায্যাকহাদীস ২০৭৪৪

এখানে এসেছেদুআটি পড়ার বদৌলতে আল্লাহ তাআলা সাপের ছোবলক্রিয়া থেকে রক্ষা করেছেন। সুতরাং বোঝা গেলদুআটি পড়লে শুধু বিচ্ছু নয়অন্য সব বিষাক্ত জীবের বিষক্রিয়া থেকেও আল্লাহ আমাদের হেফাযত করবেন।

দুআটি পড়েছেনিরাপদ থেকেছে

আবু হুরায়রা রা. থেকে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন আবু সালেহ যাকওয়ান রাহ.। বর্ণনা করার পর আবু সালেহ রাহ. বলেন-

فَعَلَّمْتُهَا ابْنَتِي وَابْنِي، فَلَدَغَتْهُمَا فَلَمْ يَضُرَّهُمَا بِشَيْءٍ.

আমি আমার মেয়ে ও ছেলেকে দুআটি শিখিয়েছি। (তারা তা পড়েছে।) এরপর বিচ্ছু তাদের ছোবল দিয়েছে। কিন্তু এতে তাদের কোনো ক্ষতি হয়নি। -মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বাহাদীস ৩০৪১৭

আবু সালেহ যাকওয়ান রাহ. থেকে বর্ণনা করেছেন তাঁর ছেলে সুহাইল ইবনে আবু সালেহ রাহ.। তিনি হাদীসটি বর্ণনা করার পর বলেন-

فَكَانَ أَهْلُنَا تَعَلَّمُوهَا فَكَانُوا يَقُولُونَهَا كُلَّ لَيْلَةٍ فَلُدِغَتْ جَارِيَةٌ مِنْهُمْ فَلَمْ تَجِدْ لَهَا وَجَعًا.

আমাদের পরিবারের লোকেরা দুআটি শিখেছিল এবং তারা প্রতি সন্ধ্যায় তা পড়ত। একদিন আমাদের এক মেয়ে দংশিত হয়েছে। কিন্তু সে এর কোনো ব্যথাই অনুভব করেনি। -জামে তিরমিযীহাদীস ৩৬০৪/১সুনানে ইবনে মাজাহহাদীস ৩৫১৮মুসনাদে আহমাদহাদীস ৭৮৯৮

দুআ পড়লে আর কোনো পরোয়া নেই

হাদীসটির বর্ণনাকারী আবু হুরায়রা রা.-এর শিষ্য আবু সালেহ রাহ.-কে যখন বলা হতঅমুককে দংশন করেছেতিনি জিজ্ঞেস করতেনসে কি আজ-

أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ

-পড়েছিল?

যদি বলা হতহাঁতাহলে তিনি আর কোনো চিন্তা করতেন না।

আবু সালেহের ছেলে সুহাইল রাহ. বলেন-   

فَكَانَ أَبِي إِذَا لُدِغَ أَحَدٌ مِنَّا يَقُولُقَالَهَا؟ فَإِنْ قَالُوانَعَمْ، قَالَكَأَنَّهُ يَرَى أَنَّهَا لَا تَضُرُّهُ.

আমাদের কেউ দংশিত হলে আব্বাজী জিজ্ঞেস করতেনসে কি দুআটি পড়েছিল?

তারা যদি বলতেনহাঁতাহলে আব্বাজি ইশারা করতেনআচ্ছাসমস্যা নেইএতে কোনো ক্ষতি হবে না। -মুসনাদে আহমাদহাদীস ১৫৭০৯২৩৬৫০

দংশনের পরও পড়া যায় দুআটি

কেউ যদি দুআটি না পড়েআর বিষাক্ত কীট-পতঙ্গ তাকে দংশন করেতাহলে এই দুআ পড়লে উপকার হবে। আবু হুরায়রা রা.-এর নিকট এমন কাউকে উপস্থিত করা হলে তিনি দুআটি পড়ার নির্দেশ দিতেন। তাঁর শিষ্য আবু সালেহ রাহ. বলেন-

فَكَانَ أَبُو هُرَيْرَةَ إِذَا لُدِغَ إِنْسَانٌ مِنَّا أَمَرَهُ أَنْ يَقُولَهَا.

আমাদের কেউ (কোনো বিষাক্ত জিনিস দ্বারা) দংশিত হলে আবু হুরায়রা রা. তাকে এই দুআ পড়ার নির্দেশ দিতেন।-সহীহ ইবনে হিব্বানহাদীস ১০৩৬

সারকথা

আমরা সকালে তিনবার বলব-

أَعُوْذُ بِكَلِمَاتِ اللهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ.

তাহলে সব ধরনের কীট-পতঙ্গের ক্ষতি থেকে সারাদিন আল্লাহ তাআলা আমাদের নিরাপদ রাখবেন।

সন্ধ্যায়ও তিনবার বলব-

أَعُوْذُ بِكَلِمَاتِ اللهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ.

তাহলে সকল প্রকার বিষাক্ত জীবের অনিষ্ট থেকে সারা রাত আল্লাহ তাআলা আমাদের রক্ষা করবেন। এডিস মশার ভাইরাস থেকেও ইনশাআল্লাহ আল্লাহ আমাদের মুক্ত ও নিরাপদ রাখবেন।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সব ধরনের মহামারিরোগ-বালাই থেকে হেফাযত করুন এবং এই দুআসহ কুরআন-হাদীসে উল্লিখিত হেফাজতের সকল দুআ থেকে পরিপূর্ণ উপকৃত হওয়ার তাওফীক দান করুনÑ আমীন। 